নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে তিন হাজার নয়শ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতরে জমা হওয়া কাদার মধ্যে ছয় শতাধিক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রকৌশলীরা সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য পাইপ চালুর চেষ্টা করছেন। একটি সুড়ঙ্গে উদ্ধারকারী দল প্রবেশ করলেও ভেতর কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সোমবার জানান যে, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্প সাইট থেকে দুইশো ঊনআশ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। চীন ও নেপালের যৌথ সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরা এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শাহ এক ফেসবুক বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরতে হবে।
উদ্ধার কাজের গতি অত্যন্ত ধীর বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা। পাহাড় কেটে সুড়ঙ্গে পৌঁছানোর জন্য সেনাবাহিনী বিস্ফোরক ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। অস্ট্রেলিয়ার সুড়ঙ্গ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড ডিক্স উল্লেখ করেছেন যে, এলাকাটি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে এবং সেখানে বিশাল আকারের পাথরের স্তূপ জমে আছে। সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে এই আশায় উদ্ধারকর্মীরা এখনও তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে চিতওয়ান জেলায় নদী তীর থেকে প্রায় তিনশো অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্রিজারের অভাব এবং অতিরিক্ত লাশের কারণে স্থানীয় প্রশাসন অস্থায়ী কবরে দাফন কার্যক্রম শুরু করেছে এবং ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত মৃতদেহের মাত্র চার শতাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপর্যয় নেপালের জলবিদ্যুৎ এবং অবকাঠামো খাতের নিরাপত্তার চিত্রকে নতুন করে সামনে এনেছে। পাহাড়ি নদীর তীরবর্তী প্রকল্পগুলোতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা রোধে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্ত বাণিজ্য ও যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করতেও দেশগুলোকে দীর্ঘ সময় পার করতে হবে।
তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সেখানে ষোল জনের মৃত্যুর পাশাপাশি পাঁচশো ছেচল্লিশ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতি বৌদ্ধধর্মের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা পাঞ্চেন লামা সেখানে একটি স্মরণসভা পরিচালনা করেছেন। সীমান্তে নিখোঁজ বা হতাহতের সংখ্যা নিয়ে অনলাইন গুঞ্জন ও অপ্রচার রোধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
