নেপাল ও চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় রাসুয়াগড়ি ও গ্যিরং সীমান্ত এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২৬ আগস্ট সংঘটিত এই বিপর্যয়ে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে এবং দুই দেশের মধ্যকার প্রধান সীমান্ত বাণিজ্য পথটি বন্ধ হয়ে গেছে।
রয়টার্স ও বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীন সংলগ্ন গ্যিরং এবং নেপালের রাসুয়া জেলার রাসুয়াগড়িতে বন্যাকবলিত এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির তীব্র স্রোত মুহূর্তের মধ্যে ভবন ও অবকাঠামো গ্রাস করে নেয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই আকস্মিক বন্যার সময় সীমান্ত এলাকায় শতাধিক ভারতীয় নাগরিক উপস্থিত থাকতে পারেন। এছাড়া নেপালে সামগ্রিকভাবে কমপক্ষে দুইশো পঁচাত্তর জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার ঠিক দশ মিনিট আগে তিব্বতে যাওয়ার জন্য উননব্বই জন নেপালি ও বিদেশি নাগরিক অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন।
নিখোঁজদের মধ্যে রাসুয়াগড়ি অভিবাসন কার্যালয়ের চারজন কর্মীও রয়েছেন। কার্যালয়ের একমাত্র বেঁচে যাওয়া কর্মকর্তা টিকা রাম পোখারেল সে দিন কাঠমান্ডুতে পরীক্ষার কারণে বাইরে থাকায় রক্ষা পান। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় সে দিন তিন থেকে চারশো মানুষ তিব্বতে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন।
তিব্বতের গ্যিরংয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে গিয়ে চীনা উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সেখানে যত দূর চোখ যায় কেবল ধ্বংসস্তূপ দেখা যাচ্ছে। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসেও এই সীমান্ত এলাকায় বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল, যার কারণে মাস ছয়েক সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, রাসুয়াগড়ি সীমান্ত নেপালের সঙ্গে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ, যা দেশটির মোট বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পরিচালনা করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই রুট বন্ধ থাকায় নেপালের বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
