যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তেহরান ৩০০ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশাল আন্তর্জাতিক পুনর্গঠন কর্মসূচি তহবিল পেতে পারে। দুই দেশের উচ্চপদস্থ আলোচকেরা বর্তমানে এই খসড়া চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। এই প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলমান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শেষ হয়ে গেলে ইরানের যুদ্ধবিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিল্পকারখানাসহ সামগ্রিক নগর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে এই বিশাল অর্থ ব্যবহার করা হবে।অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে এই চুক্তির খসড়া তৈরি হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে, যার অর্থ হলো এই সংগৃহীত ফান্ডের অর্থ একাধিক উন্নত দেশ থেকে আসতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এতে সরাসরি সহায়তা করবে। এই বিশেষ কাঠামোর অধীনে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ানোর আইনি সম্ভাবনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ও জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, যেকোনো ধরনের চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই এই আটকে থাকা বিশাল সম্পদ অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনীতিকদের মতে, এই দ্বিপাক্ষিক খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং একটি অনাক্রমণ শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার অধীনে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে একে অপরকে আক্রমণ না করতে পারস্পরিক সম্মত হবে। মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনা ও লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ উন্মুক্ত করবে।
পারমাণবিক ইস্যুতেও এই খসড়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ইরান কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মতি জানাবে। আলোচনা চলাকালীন ইরান তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বন্ধ রাখবে এবং এর বিনিময়ে মার্কিন প্রশাসন তেহরানের ওপর নতুন করে কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণরূপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানালেও তেহরান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অধীনে দেশেই রাখার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ইউরেনিয়ামের ঘনত্ব কমানো বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে তা স্থানান্তরের বিকল্প মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি রাশিয়া বা চীনে সংরক্ষণ করা যাবে না। এছাড়া খসড়াটিতে ইরানকে সীমিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা দেশটিতে বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক জ্বালানি বিনিয়োগের দুয়ার উন্মুক্ত করবে এবং সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথও সচল করবে।
