লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির শর্ত ও চুক্তি মানতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। এই চুক্তি লঙ্ঘনের সুদূরপ্রসারী ধারাবাহিকতার কারণে ওয়াশিংটনকে ভবিষ্যতে অত্যন্ত চরম মূল্য দিতে হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। সোমবার ইরানের প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে সরাসরি মার্কিন বৈরী নীতি ও দ্বিমুখী পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।যুক্তরাষ্ট্রকে চরম মূল্য দিতে হবে।
গালিবাফ তার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অন্যায় ও অনৈতিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা এবং লেবাননে ইসরায়েরলের বর্বরোচিত সামরিক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়াটাই প্রমাণ করে যে মার্কিন প্রশাসন এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে লিখেছেন, সাগরে অবরোধ বজায় রাখা এবং লেবাননে গণহত্যাকারী জায়নবাদী শাসনের যুদ্ধাপরাধে পরোক্ষ মদদ দেওয়া মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতিটি ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের একটি সুনির্দিষ্ট ও অবধারিত মাশুল রয়েছে যা একসময় তাদের পরিশোধ করতেই হবে। এভাবে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন চলতে থাকলে হোয়াইট হাউজকে এর জন্য অত্যন্ত গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি একসময় সবার সামনে একদম পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে, এই যুদ্ধবিরতি অঞ্চলজুড়ে কার্যকর রাখতে হলে মার্কিন পক্ষকে অবশ্যই তাদের দেওয়া লিখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে রূপান্তর করতে হবে।
এদিকে উদ্ভূত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি ও চলমান সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাটি এসমাইল বাঘাইও তেহরানের মূল অবস্থান বিস্তারিতভাবে পরিষ্কার করেছেন। এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচির অভ্যন্তরীণ বা বিস্তারিত কোনো বিষয় নিয়ে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা বা কূটনৈতিক সংলাপ চলছে না। পারমাণবিক ইস্যুতে ঠিক কখন এবং কীভাবে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে তা ইরানের খুব ভালোভাবেই জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে তাদের সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার হচ্ছে লেবানন ও গাজায় চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটানো। বাঘাইও পেন্টাগনের বিরুদ্ধে সোমবার সকালেও নতুন করে চুক্তি লঙ্ঘনের একই অভিযোগ এনেছেন।
