২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তুরস্কের আনতালিয়া শহরে আয়োজিত প্রীতি ম্যাচে মালির বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পেয়েছে ইরান। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের আগে এটিই ছিল তাদের শেষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচ। খেলার প্রথমার্ধের পর মিডফিল্ডার সাঈদ এজাতোলাহি এবং রাইট ব্যাক রামিন রেজায়েইয়ান গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই নিয়ে চলতি বছর আনতালিয়ার এই শহরে চারটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে তিনটিতে জয় ও একটিতে পরাজয়ের রেকর্ড নিয়ে ইরান এখন বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত।
তবে মাঠে পারফরম্যান্সের উজ্জ্বল চিত্র থাকলেও মাঠের বাইরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনো দলটিকে ঘিরে রেখেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে ঘরোয়া লিগ স্থগিত হওয়ার পর এটিই ছিল দলটির একমাত্র প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল। কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, মেক্সিকোয় অবস্থিত বিশ্বকাপের বেস ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য তারা ভিসা পেয়েছেন। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম তাদের এই টুর্নামেন্টের জন্য আতিথ্য দিতে সম্মত হয়েছেন, কারণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ অ্যারিজোনায় তাদের প্রাথমিক ক্যাম্প স্থাপনের অনুমতি দেয়নি।
সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ভিসার জটিলতা। ইরানকে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং মিশরের বিপক্ষে সিয়াটলে খেলতে হবে। তবে এই শহরগুলোতে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা এখনো খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের হাতে আসেনি। ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, আসর শুরুর আগেই ভিসা প্রাপ্তি এখন তাদের ফেডারেশনের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান দলের খেলোয়াড়দের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই। তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসলামী রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা স্টাফদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উভয় দেশই এই এলিট সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর আগে এপ্রিল মাসে ফিফা কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য কানাডায় প্রবেশের সময় তাজ নিজেই ভিসা জটিলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই সংকট সমাধান না হলে টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
