আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টটি ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘতম আসর হতে যাচ্ছে। প্রায় ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই মহাযজ্ঞ তিনটি দেশ—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক হিসেবে দীর্ঘদিনের একক দেশভিত্তিক ধারণার বাইরে গিয়ে এই নতুন উদ্যোগটি ফুটবল ভক্তদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে। উত্তর আমেরিকার তিনটি দেশের মোট ১৬টি শহরে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ৩৯ দিন ধরে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে। আগের আসরগুলোর তুলনায় এটি সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় সংস্করণ হতে যাচ্ছে। ইউরোপের উয়েফা থেকে ১৬টি দল, আফ্রিকা থেকে ৯টি এবং এশিয়া থেকে ৮টি দল সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। দলের সংখ্যা বাড়ার কারণে টুর্নামেন্টের বিন্যাসেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নকআউট পর্বে এবার রাউন্ড অফ ৩২ নামে নতুন একটি অতিরিক্ত ধাপ যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বকাপ জয়ী দলকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে মোট আটটি ম্যাচ খেলতে হবে, যা কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে একটি বেশি।
এই আসরের সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হলো ফুটবলে এনএফএল বা ন্যাশনাল ফুটবল লিগের আদলে হাফ-টাইম শো। আগামী ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল ম্যাচে এই বিশেষ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানটি হবে। নিউ ইয়র্কের আকাশে আতশবাজির ঝলকানি এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এই শো’টি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। ক্রিস মার্টিনের কিউরেটরশিপে এই ১১ মিনিটের পারফরম্যান্সে বিটিএস, ম্যাডোনা এবং শাকিরাসহ আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীরা অংশ নেবেন। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপে এই একই ভেন্যুতে এ ধরনের পারফরম্যান্সের সফল প্রয়োগ দেখা গিয়েছিল।
টুর্নামেন্টের আগে দলের জার্সি বা কিট নিয়েও দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অ্যাডিডাসের ডিজাইনে তৈরি বিভিন্ন দেশের জার্সি ইতোমধ্যে ফুটবল প্রেমীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে জাপানের উজ্জ্বল নীল কিট, কুরাকাওয়ের লেমন ইয়েলো জার্সি এবং ফ্রান্সের গাঢ় নীল জার্সির নান্দনিক নকশা প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার ল্যাশ গোল্ড এবং ফরেস্ট গ্রিন স্ট্রাইপ কিটটিও বেশ আকর্ষণীয়। সব মিলিয়ে নতুন ফরম্যাট, একাধিক দেশীয় আয়োজক এবং জমকালো বিনোদনের সংমিশ্রণে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এক অবিস্মরণীয় আসর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ফুটবল প্রেমীরা এখন অধীর অপেক্ষায় আছেন মাঠে বল গড়ানোর জন্য।
