১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক। আল জাজিরা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইরাকের ফুটবল দল লয়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিনের সংঘাত, নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ইরাকি ফুটবলের এই অর্জন দেশটিতে নতুন করে আনন্দের জোয়ার নিয়ে এসেছে। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডের অধীনে দলটি বাছাইপর্বে টানা ২১টি ম্যাচ খেলে শেষ পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে নিজেদের নাম লিখিয়েছে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত করার পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে দলটিকে মেক্সিকোতে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে যেতে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। খেলোয়াড়দের জর্ডান হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড জানান, এই দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে খেলোয়াড়দের তিন দিনের বিশ্রাম দিতে হয়েছিল। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির দোহাই না দিয়ে তারা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। এই জেদই তাদের শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে সাহায্য করেছে।
দলের স্ট্রাইকার আলী আল-হামাদি বলিভিয়ার বিপক্ষে গোল করে জয়ের সূচনা করেছিলেন। ইরাকি বংশোদ্ভূত এই ফুটবলার ইংল্যান্ডের লুটন টাউনে খেলেন। তার শৈশব কেটেছে লিভারপুলে, তবে পরিবারে সবসময় ইরাকি সংস্কৃতি ও ভাষা ধরে রেখেছিলেন তিনি। এই গোলটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে বলে তিনি জানান। ইরাকি সমর্থকদের কাছে এই জয় কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতিফলন। দেশটিতে ফুটবল সবসময়ই আনন্দের একটি মাধ্যম হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ইরাক পড়েছে মৃত্যুকূপ বা গ্রুপ অফ ডেথে। তাদের গ্রুপে রয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দল। কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বিশ্বাস করেন, দল হিসেবে খেলতে পারলে এই কঠিন চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব। অস্ট্রেলিয়াকে ২০২২ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় রাউন্ডে নিয়ে যাওয়া আর্নল্ড এখন ইরাকের হয়ে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান। তিনি মনে করেন, এটি মানুষে মানুষে লড়াই এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে বিশ্বের সেরা দলকেও চমকে দেওয়া সম্ভব।
ইরাকি ফুটবলাররা এখন স্পেনে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে স্পেন এবং অ্যান্ডোরার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলে দলটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ইরাকের এই ফেরা বিশ্ব ফুটবল ভক্তদের জন্য এক বড় বার্তা। অশান্তির জনপদ থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড়রা ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান। তাদের এই লড়াকু মানসিকতা ফুটবল বিশ্বে আবারও ইরাককে পরিচিত করে তুলবে।
