হামাস জানিয়েছে যে তারা এই মুহূর্তে অস্ত্র সমর্পণ করবে না, তবে গাজার রাস্তায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর দৃশ্যমান উপস্থিতি থাকবে না। আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বাদরান জানিয়েছেন, গাজার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব অফিশিয়াল ফিলিস্তিনি পুলিশের হাতে থাকবে। তিনি এই নতুন ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন যা কায়রোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আলোচনার মূল ভিত্তি হতে পারে।
হুসাম বাদরান বলেন, যখন ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা বা এনসিএজি গাজার শাসনভার গ্রহণ করবে, তখন রাস্তায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দেখা যাবে না। গাজার অলিগলিতে কেবল সেই কমিটির অধীনস্থ পুলিশ বাহিনী তাদের সরকারি অস্ত্র নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে। এর মানে এই নয় যে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সব অস্ত্র জমা দিচ্ছে, বরং এটি একটি জাতীয় কাঠামোর অধীনে নিয়ন্ত্রিত পদক্ষেপ। তিনি পরিষ্কার করেছেন যে এই বিষয়টির বিস্তারিত জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা করা হবে।
হামাসের এই অবস্থান এমন এক সময়ে এল যখন কায়রোতে ফিলিস্তিনি বিভিন্ন দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আলোচনাটির উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান তৈরি করা। হামাস এবং ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদসহ আটটি প্রধান দল এই বৈঠকে অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে বাদরান জানিয়েছেন যে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্তগুলোও সঠিকভাবে মানছে না।
গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে হামাস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে গাজায় প্রতিদিন মাত্র ১৫০ থেকে ২৫০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে, যেখানে চুক্তিতে ৬০০টি ট্রাকের কথা ছিল। এছাড়া গাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও হাসপাতালগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগ এনে হামাস বলছে, প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রমাণ করে।
ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপের জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণকে প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছে। নিকোলাই ম্লাদেনভ প্রস্তাবিত ১৫ দফা রোডম্যাপে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে পর্যায়ক্রমে অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এই আলোচনার সময়টিকে নিজেদের দখলদারিত্ব বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করছে। তারা মনে করছেন, গাজার পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে না পারলে এই আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে পারবে না।
এদিকে ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলদারিত্বের ভেতর কাজ করতে প্রস্তুত নয়। কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজায় কাজ শুরু করবে না। মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে। অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৭২,৯৪২ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ১,৭২,৯৬৭ জন। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।
