শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছেন, স্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ৫, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বলেছেন, স্বীকার করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘পাগল’ বা ‘ক্রেজি’ বলে সম্বোধন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনা নিয়ে টেলিফোনে কথা বলার সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় বলে জানা গেছে। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম আক্সিওসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি দেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত আপত্তিকর শব্দে অভিযুক্ত করেছেন কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি সত্যিই এমন মন্তব্য করেছিলেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কেবল রাগের মাথায় বলা কোনো মন্তব্য ছিল না, বরং লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত সামরিক আগ্রাসনের প্রতি তার চরম বিরক্তির বহিঃপ্রকাশ ছিল। ট্রাম্প বলেন, আমি রেগে ছিলাম তা বলব না, তবে লেবাননের ওপর ইসরায়েলের ক্রমাগত আক্রমণ আমাকে বিরক্ত করেছে। আমি তাকে বোঝাতে চেয়েছিলাম যে এখন এটা থামানো উচিত।

আক্সিওসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প বেশ কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। সেই কথোপকথনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ না থাকলে নেতানিয়াহুকে আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো এবং সম্ভবত জেলও খাটতে হতো। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি নেতানিয়াহুকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করেছেন, অথচ ইসরায়েলের বর্তমান কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে ঘৃণার জন্ম দিচ্ছে।

গত মে মাসে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অজুহাতে নেতানিয়াহুর নির্দেশে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে অগ্রসর হলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করে ইরান। এই পরিস্থিতির কারণেই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। যদিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এখনো ভালো সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্য জনসমক্ষে এমন কঠোর সমালোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিরল। লেবানন ও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে ইসরায়েলের যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্টভাবে সামনে চলে এল। নেতানিয়াহুর সামরিক কৌশলের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই অবস্থানের ফলে আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।

banner
Link copied!