ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে স্টেডিয়ামের দর্শক গ্যালারির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে এখন থেকে দর্শকরা কোনো ধরনের পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল, ক্যান কিংবা প্লাস্টিক জার সাথে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই আকস্মিক ঘোষণা ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গত মে মাসে ফিফা জানিয়েছিল যে, দর্শকরা চাইলে এক লিটার পর্যন্ত ধারণক্ষমতার খালি এবং স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বোতল সাথে রাখতে পারবেন। কিন্তু গত মঙ্গলবার নতুন সংশোধিত নিয়ম কার্যকর করার মধ্য দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ফিফার ভাষ্যমতে, গ্যালারি থেকে মাঠের খেলোয়াড়, রেফারি কিংবা অন্য সমর্থকদের লক্ষ্য করে কোনো কিছু ছুড়ে মারার ঝুঁকি এড়াতেই এই কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে।
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর বিভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্টে প্রচণ্ড গরম একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিভিন্ন ভেন্যুতে তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এমতাবস্থায় স্টেডিয়ামের ভেতরে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি না থাকলে দর্শকরা পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনে ভুগতে পারেন বলে বিভিন্ন সমর্থক গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সমর্থকদের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা আশ্বস্ত করেছে যে, পানীয় জলের কোনো সংকট হবে না। প্রতিটি আয়োজক শহরের স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় স্টেডিয়ামের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়াটার হাইড্রেশন স্টেশন, মিস্টিন ফ্যান এবং কুলিং টেন্টের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফিফা আরও জানিয়েছে যে, স্টেডিয়ামের ভেতরে ফিফা অনুমোদিত যে পানির বোতলগুলো বিক্রি করা হবে, তার দাম অন্যান্য সাধারণ টুর্নামেন্ট বা কনসার্টের দামের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা হবে।
যা কম স্পষ্ট তা হলো, বিশ্বকাপের বিশাল জনসমাগমের মধ্যে এই নতুন নিয়ম কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। হাজার হাজার সমর্থকের তৃষ্ণা মেটাতে স্টেডিয়ামের ভেতরকার হাইড্রেশন স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় থেকে যাচ্ছে। খেলা চলাকালীন মাঠের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনে ফিফা কঠোর পদক্ষেপ নিলেও দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রাখাটাই এখন আয়োজকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন নিয়ম দর্শকদের কতটা স্বস্তি দেয় এবং পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এর প্রয়োগ কতটা সফল হয়।
