পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে একাধিক গোয়েন্দাভিত্তিক ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে অন্তত ১৭ জন ভারত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (২ জুন) দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক অফিশিয়াল বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশে রেললাইনের ওপর ভয়াবহ বোমা হামলার পর এই সাঁড়াশি অভিযান শুরু করা হয়।নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের একাধিক গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে এই সাঁড়াশি অভিযান চালায়।
আইএসপিআর-এর অফিশিয়াল ভাষ্য অনুযায়ী, বেলুচিস্তানের মাস্তুঙ্গ, নুশকি, জেহরি, খুজদার এবং কেচ জেলায় এই বিশেষ অভিযানগুলো সফলভাবে পরিচালনা করা হয়েছে। তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী সশস্ত্র গোলাগুলির পর ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে পরিচিত ভারত-পৃষ্ঠপোষকতা পুষ্ট উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ১৭ জন সক্রিয় সদস্যকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়। এই সফল অভিযানের মাধ্যমে ওই সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূল পরিকাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রশাসনিক আঘাত হানা গেছে বলে সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন। নিহতদের গোপন ক্যাম্প থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, সামরিক গোলাবারুদ, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক এবং ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকৃত ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস বা আইইডি উদ্ধার করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত এই সশস্ত্র ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলে একাধিক নাশকতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। মূলত গত ২৪ মে কোয়েটার চামান ফটকের কাছে রেললাইনের পাশে একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর এই প্রত্যন্ত জেলাগুলোতে অভিযানগুলোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়। চামান ফটকের ওই ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ৩ সদস্যসহ অন্তত ১৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। provincial সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশুও ছিল। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেলুচিস্তান প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
