লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান সামরিক আগ্রাসনের তীব্র পরিণতি সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান কমান্ডার ইসমাইল কা`আনি। বুধবার (৩ জুন) এক অফিশিয়াল বার্তায় তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন ও নির্লজ্জ সমর্থনের ওপর ভর করে ইসরায়েল যে সহিংসতা চালাচ্ছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিরোধ অক্ষের সংকল্পকে আরও বেশি সুদৃঢ় করবে। এর ফলে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কৌশলগত নৌপথগুলোতে বড় ধরনের সামরিক পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি।বাব আল-মান্দেব প্রণালীর সার্বিক পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীর মতো হয়ে যাবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
কমান্ডার কা`আনি জোর দিয়ে বলেন, গাজা ও দক্ষিণ লেবাননে একযোগে সংঘটিত ইসরায়েলি অপরাধের প্রতিক্রিয়া শুধু এই দুই ফ্রন্টে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং অন্যান্য ফ্রন্টগুলোকেও সক্রিয় করার জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযান চলাচলের পরিস্থিতিকে হরমুজ প্রণালীর সমতুল্য করা হবে, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। লোহিত সাগরের এই কৌশলগত প্রবেশদ্বারটি অবরুদ্ধ বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ মারাত্মক সংকটের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আইআরজিসি-র এই শীর্ষ কর্মকর্তা ইসরায়েলি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, তারা যেন মনে না করে এই অপরাধের কোনো জবাব আসবে না। দক্ষিণ লেবানন ও গাজার বর্তমান প্রতিরোধ হিজবুল্লাহর সামরিক অভিযানের এক ঘূর্ণাবর্ত তৈরি করবে, যার ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি আটকা পড়বে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের পুনরায় উত্থিত এক বিশাল ঝড় পুরো অঞ্চলের সমীকরণকে বদলে দেবে। ওয়াশিংটনের অন্ধ সমর্থন তেল আবিবকে এই অবশ্যম্ভাবী সামরিক ও কৌশলগত বিপর্যয় থেকে কোনোভাবেই রক্ষা করতে পারবে না বলে কুদস ফোর্সের এই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
