যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাব পেশ করেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) ধারা ৩০১-এর অধীনে অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা সংক্রান্ত একটি তদন্তের সর্বশেষ ফলাফল হিসেবে এই শুল্কের প্রস্তাবনা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।এই নতুন পদক্ষেপটি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় উদ্যোগ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী শুল্ক ব্যবস্থাটি বাতিল হয়ে গিয়েছিল, যার পর থেকেই নতুন এই বাণিজ্যিক আইনি কাঠামো তৈরির চেষ্টা চলছে। ইউএসটিআর-এর অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ ও একটি অর্থনৈতিক জোটের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তালিকার অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যানাডা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ান।
বাণিজ্য সংস্থাটি আরও নিশ্চিত করেছে যে, তদন্তাধীন থাকা বাকি ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। এই বড় শুল্ক প্রস্তাবের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে টানাপোড়েন এবং তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে কবে নাগাদ কার্যকর হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
