২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে ব্রাজিল ফুটবল দল। তবে এবারের আসরে ল্যাটিন আমেরিকার এই পরাশক্তিকে মূল ফেভারিট হিসেবে দেখছেন না দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসিমিরো। গত মঙ্গলবার পুরো স্কোয়াড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর পর ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানান, অন্য দলগুলোর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকা তাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা গত ২৪ বছর ধরে এই সোনালী ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি।
বুকমেকার ও ফুটবল বিশ্লেষকরা এবারের জুন-জুলাইয়ের টুর্নামেন্টে ব্রাজিলকে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, সাবেক বিশ্বজয়ী ফ্রান্স এবং ইংল্যান্ডের পেছনে রাখছেন। ক্যাসিমিরো বলেন, আমরা টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ফেভারিট নই, তবে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। আমাদের দলে অভিজ্ঞ তারকা এবং তরুণ প্রতিভার এক চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। ফেভারিট তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে থাকা মানেই দল অগোছালো নয়, বরং এটি তাদের সবসময় সতর্ক ও মনোযোগী রাখতে সাহায্য করবে।
৩৪ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার স্বীকার করেন যে, গত এক বছর ধরে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং ঘন ঘন কোচ পরিবর্তনের কারণে তাদের প্রস্তুতিতে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে। গত বছর ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি ফেডারেশনে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হন। ক্যাসিমিরো জানান, আনচেলোত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের অধীনে তারা মাত্র এক বছর কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং এর মধ্যে মাঠে একসাথে কাটানো হয়েছে মাত্র ৪০ দিন। তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের প্রস্তুতি সত্ত্বেও দলের ফুটবলারদের উদ্যম ও মানসম্মত খেলার ক্ষমতা নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।
আগামী ১৩ জুন নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ `সি`-তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে। এরপর ১৯ জুন পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়াতে হাইতির মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা এবং ২৪ জুন মিয়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তারা গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই ফুটবল মহোৎসবের সব খবর এবং লাইভ ধারাভাষ্য ফুটবল ভক্তরা সরাসরি উপভোগ করতে পারবেন।
