তিউনিসিয়ার একটি শীর্ষ আদালত দেশটির প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাশেদ ঘানুচি এবং এন্নাহদা পার্টির আরও কয়েক ডজন নেতাকর্মীকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। বহুল আলোচিত গোপন সংস্থাসংক্রান্ত মামলায় এই রায় দেওয়া হয়েছে বলে তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা নিশ্চিত করেছে। তিউনিসের প্রথম বিচারিক আদালত মঙ্গলবার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় ধরনের মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।আদালত ঘানুচিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের অতিরিক্ত কারাদণ্ড দিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে অবৈধ সন্ত্রাসী জোট গঠনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই সাজা ঘোষণা করা হয়। একই মামলায় সাবেক তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলী লারায়েদসহ আরও ১১ জন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনকে সর্বোচ্চ ৯৬ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে আদালত। বাকি ১৩ জন আসামিকে অপরাধের মাত্রা ভেদে ১০ থেকে ৪৮ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আদালতের রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঘানুচি এবং তার সহযোগীরা একটি সন্ত্রাসী জোটের স্বার্থে নিজেদের রাজনৈতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করেছিলেন। এর পাশাপাশি সমস্ত আসামির ওপর সাজা খাটার পর পরবর্তী ৫ বছরের জন্য প্রশাসনিক নজরদারি বজায় রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ২০১২ সালের শুরুর দিকে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এবং দুই বামপন্থী রাজনীতিবিদ চোকরি বেলায়েদ ও মোহাম্মদ ব্রাহমির পরিবারের আইনজীবীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই আইনি তদন্ত শুরু হয়েছিল। ২০১৩ সালে এই দুই কট্টর এন্নাহদা সমালোচককে প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীরা গুলি করে হত্যা করেছিল।
বেলায়েদ ও ব্রাহমির পরিবারের আইনজীবীরা দীর্ঘ দিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে এন্নাহদার একটি গোপন শাখা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
তবে এন্নাহদা পার্টি শুরু থেকেই এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এসেছে এবং এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যায়িত করেছে। গত এপ্রিল মাসে কারাবন্দী ঘানুচির স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন তিউনিসিয়ার জাতীয় মুক্তি ফ্রন্টসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। ২০২৩ সালের পবিত্র রমজান মাসে এক ইফতার মাহফিল থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে প্রথম গ্রেপ্তার করে। বর্তমান তিউনিসীয় প্রশাসন অবশ্য রাজনৈতিক কারণে কাউকে বন্দী রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
