মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অবহেলা নয়: মাড়ির রক্তপাত ও ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ চেনার উপায়

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : জুন ২, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

অবহেলা নয়: মাড়ির রক্তপাত ও ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ চেনার উপায়

দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্তপাত হওয়া কিংবা মুখগহ্বরের ভেতরের ছোটখাটো আলসার বা ঘাকে বেশিরভাগ মানুষই সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত পান, গুল, জর্দা কিংবা cigarettes-এর মতো তামাকজাতীয় দ্রব্য গ্রহণে অভ্যস্ত, তারা এই সমস্ত লক্ষণকে একদমই পাত্তা দিতে চান না। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ উদাসীনতাই পরবর্তীতে অকালমৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মুখগহ্বরের ভেতরের এই ধরণের ছোটখাটো পরিবর্তন আসলে ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে, যা অবহেলা করলে প্রাণঘাতী রূপ নেয়।সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও সচেতনতাই পারে এই মারণব্যাধি থেকে জীবন রক্ষা করতে।

চিকিৎসকদের মতে, মুখের অভ্যন্তরে কোনো ঘা বা আলসার যদি টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে না সারে, তবে তা ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া জিভ, মাড়ি কিংবা গালের ভেতরের অংশে সাদা বা লাল রঙের ছোপ দেখা দেওয়া, খাবার চিবানো বা গিলতে সমস্যা হওয়া এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ দাঁত আলগা হয়ে যাওয়া এই রোগের অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ। ভালো মানের মাউথওয়াশ বা নিয়মিত ব্রাশ করার পরেও যদি মুখে অনবরত দুর্গন্ধ থাকে এবং মুখের ভেতরের কোনো অংশ অবশ বা শক্ত পিণ্ডের মতো মনে হয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।

অতীতে এই রোগটি সাধারণত প্রবীণদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও বর্তমানে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ওরাল ক্যানসারের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মক্ষেত্রের অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানোর দোহাই দিয়ে তরুণ প্রজন্মের একাংশের মাঝে চেইন স্মোকিং, পার্টি কালচার এবং ইদানিং যুক্ত হওয়া ক্ষতিকর ভেপিং বা ই-সিগারেটের প্রবণতাই এর জন্য প্রধানত দায়ী। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক স্তরে ওরাল ক্যানসারের লক্ষণ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন। তাই ক্ষতিকর তামাকের অভ্যাস ত্যাগ করে মুখের সামান্যতম পরিবর্তনেও দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি।

banner
Link copied!