ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নিতে পূর্ব গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর বুনিয়া শহরে সমস্ত আকাশপথের যোগাযোগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। কঙ্গোর পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতুর প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় ইবোলার সংক্রমণ যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত বুনিয়া বিমানবন্দরে কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট উড্ডয়ন বা অবতরণ করতে পারবে না।
প্রশাসনিক এই কঠোর নির্দেশনার ফলে পূর্ব কঙ্গোর এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত শহরটি অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ থাকলেও জরুরি মানবিক ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী ফ্লাইটের জন্য বিশেষ অনুমোদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই বিশেষ অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাস্তাঘাট প্রায় চলাচলের অযোগ্য হওয়ায় আকাশপথই ছিল বুনিয়ার মানুষের যোগাযোগের প্রধান উপায়, যা এখন রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
ইবোলার বিস্তার ঠেকাতে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাও ডিআর কঙ্গো থেকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বুনিয়ার ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ নিত্যপণ্য উগান্ডার কাম্পালা থেকে আমদানি করেন, যা এখন বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সারাহ বিটাঙ্গালো নামে একজন স্থানীয় কাপড় ব্যবসায়ী জানান, উগান্ডা সীমান্ত বন্ধ থাকায় তিনি গ্রাহকদের অর্ডার পূরণ করতে পারছেন না।
শহরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৫০ শতাংশই এই আকাশপথ ও বাণিজ্য রুটের ওপর নির্ভরশীল। অনেক ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক মনে করছেন, সরকার যদি দ্রুত কর সুবিধা বা কোনো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা না করে, তবে বুনিয়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের যোগান কমে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছেন অর্থনীতিবিদরা।
চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে জানা যায়। ৯৩০টিরও বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু ও ইতুর প্রদেশে। আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল জানিয়েছে, এই মহামারি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগী ও বিভিন্ন দেশ প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
