মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আন্তর্জাতিক সংঘাত বা যুদ্ধ কেবল ভূরাজনীতির জটিল সমীকরণ নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়ানোর এক অভিনব উপায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাহামাসে অনুষ্ঠিত তার ছেলে ডন জুনিয়রের সাম্প্রতিক বিয়েতে ট্রাম্পের অনুপস্থিতি মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, ইরান সংকটের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকে ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত সুবিধা ও পারিবারিক অনুষ্ঠান এড়ানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।হোয়াইট হাউস থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে ইরানের সাথে চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে টেবিলে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রস্তাব রয়েছে এবং চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু বাস্তবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। হরমুজ প্রণালীতে মাইনের উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। এই দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক অস্থিরতাই ট্রাম্পের জন্য এক ধরনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ফাঁকিবাজির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই অবস্থানের পক্ষে অদ্ভুত যুক্তি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প বলেছিলেন, তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ইরান এবং সেখানে না গেলে বা গেলে সবক্ষেত্রেই তাকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই আন্তর্জাতিক সংকট ট্রাম্পের কাছে এক চিরস্থায়ী অজুহাতে পরিণত হয়েছে, যা তাকে পারিবারিক দায়বদ্ধতা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে।
ছেলের নতুন স্ত্রী সম্পর্কে ট্রাম্পের শুষ্ক মন্তব্যও ট্রাম্প পরিবারের ভেতরের শীতল সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প তাকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন উল্লেখ করে শুধু আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটুক। এই ধরনের নির্লিপ্ত প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট যে ট্রাম্পের কাছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সংকট প্রায়শই রাজনৈতিক নাটকীয়তা বজায় রাখার হাতিয়ার মাত্র।
পরিশেষে বলা যায়, ওয়াশিংটনের বর্তমান কূটনৈতিক চাপ এবং ইরানের সাথে অচলাবস্থার মাঝেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ। হোয়াইট হাউসের এই কৌশল আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
