মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে নতুন ঐকমত্যে পৌঁছাল দুই দেশ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

চীন-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে নতুন ঐকমত্যে পৌঁছাল দুই দেশ

চীন ও পাকিস্তান কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে নতুন একটি বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছেছে। দুই দেশ তাদের যৌথ অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপেক প্রকল্পের উন্নয়ন এবং গওয়াদার বন্দরকে আঞ্চলিক সংযোগের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এই সমঝোতার কথা একটি যৌথ বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় এটি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন ও পাকিস্তান তাদের দীর্ঘদিনের সর্ব-আবহাওয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে আন্তরিকভাবে কাজ করবে। দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতিতে দুই দেশের এই ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর শেষ হলো।

নিজের এই সফরকালে পাকিস্তান বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ বর্তমানে আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে এক জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করা পাকিস্তানের জন্য অপরিহার্য।নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

সিপেক প্রকল্পের আওতায় ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ কারাকোরাম হাইওয়ে উন্নয়ন এবং গওয়াদার বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দুই পক্ষই একমত হয়েছে। তবে বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো পাকিস্তানে চীনা নাগরিক ও প্রকল্পের নিরাপত্তা। বারবার হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান সরকার তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার এবং চীনা শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর বা সিপেক চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অন্যতম প্রধান প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশাল অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। বিদ্যমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দুই দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগ বহাল রাখার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখাই এখন এই নতুন ঐকমত্যের মূল লক্ষ্য।

banner
Link copied!