মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ঘিরে অভিবাসীদের মধ্যে আইসিই (ICE) আতঙ্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম

বিশ্বকাপ ঘিরে অভিবাসীদের মধ্যে আইসিই (ICE) আতঙ্ক

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎসবের আমেজ থাকলেও, সেদেশের অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মনে কাজ করছে গভীর আতঙ্ক। বিশেষ করে ফুটবলপ্রেমী অভিবাসীরা ‘ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ বা আইসিই (ICE)-এর অভিযান নিয়ে ভয়ে আছেন। অনেক ফুটবলপ্রেমী তাদের প্রিয় দলের খেলা সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে দেখার সাহস পাচ্ছেন না।আইসিই-এর উপস্থিতি এখন বড় ভয়ের কারণ।

হাইতির নাগরিক এমিল, যিনি বর্তমানে ওহাইওতে বাস করেন, তার দেশ ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এটি হাইতিয়ানদের জন্য গর্বের হলেও এমিল ভয়ে খেলা দেখতে যেতে পারছেন না। বহিষ্কারের ভয় তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি জানান, তার আইনজীবী তাকে বিমানবন্দরের মতো স্থানে যেতে নিষেধ করেছেন।অভিবাসী সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীরা আইসিই-এর কঠোর ও অনেক সময় আক্রমণাত্মক অভিযানের সাক্ষী। হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ১২০টিরও বেশি নাগরিক অধিকার সংস্থা একটি ‘ভ্রমণ সতর্কতা’ জারি করেছে। তাদের দাবি, স্টেডিয়াম বা ফ্যান জোনগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অভিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি বৈধ নথিপত্র থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ভীতি ও হয়রানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশই হিস্পানিক বংশোদ্ভূত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার হাইতিয়ান রয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ মায়ামি ও নিউইয়র্কে বসবাস করেন। ম্যাসাচুসেটসেই রয়েছে ৮৭ হাজার হাইতিয়ানের বিশাল এক প্রবাসীকেন্দ্র। অভিবাসন নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

কাজের পরিবেশেও এর প্রভাব পড়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের কর্মীরা আইসিই-এর উপস্থিতির বিরুদ্ধে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। শ্রমিকরা আশঙ্কা করছেন, স্টেডিয়ামে অভিবাসন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সেখানে কাজের পরিবেশ এবং দর্শকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। তারা ফিফার কাছে দাবি জানিয়েছেন যেন ব্যক্তিগত তথ্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা না হয়।

ফিফা জানিয়েছে, তারা মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে উচ্চমূল্যের টিকিটের কারণে অনেক অভিবাসী এমনিতেই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম ১ হাজার ১২০ ডলার থেকে শুরু করে ২ হাজার ৭৩৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে একদিকে বহিষ্কার আতঙ্ক, অন্যদিকে আকাশচুম্বী টিকেটের দাম—দুই মিলিয়ে বিশ্বকাপের আমেজ থেকে দূরে থাকছেন অভিবাসীরা।

banner
Link copied!