বিশ্বজুড়ে শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তা উদ্বেগজনক হারে কমেছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি। গবেষকরা বলছেন, অলস সময় কাটানো, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং খেলাধুলার সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি দশজন শিশুর মধ্যে একজন বর্তমানে স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে। শৈশবের এই শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বড় হওয়ার পরও তাদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।শারীরিক ব্যায়াম শিশুদের কেবল শরীরই নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাও বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন শিশুদের অন্তত ৬০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম বা সক্রিয় থাকা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়ামের সঙ্গে যুক্ত থাকে, বড় হওয়ার পর তাদের হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি অনেক কম থাকে। এছাড়া তাদের বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং মানসিকভাবে তারা অনেক বেশি প্রফুল্ল থাকে।
ইউনিভার্সিটি অব রোড আইল্যান্ড-এর অধ্যাপক নিকোল লোগান মনে করেন, শরীরচর্চা সরাসরি শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস বাড়লে মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, যা একাগ্রতা ও জটিল কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে, স্থূলতা কমানোর জন্য পরিচালিত স্কুল-ভিত্তিক ব্যায়াম কর্মসূচিগুলোতে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি।ব্যায়ামের জন্য ব্যয়বহুল স্পোর্টস ক্লাবের প্রয়োজন নেই।
গবেষণায় দেখা গেছে, স্কুলে যাওয়ার আগে বা পরে সামান্য দৌড়ঝাঁপ কিংবা খেলার সুযোগ বাড়িয়ে দিলেও শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। যারা আগে কোনো ধরনের খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিল না, তারাও নিয়মিত নড়াচড়া ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে বিএমআই কমাতে সক্ষম হয়েছে। বাবা-মায়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ না কমিয়ে স্কুলগুলোকে প্রতিদিন ৬০ মিনিট নড়াচড়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
