জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে কুরবানির প্রস্তুতির পাশাপাশি তাকবিরে তাশরিকের প্রস্তুতিও শুরু হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও জিলহজের ৯ তারিখ বা আরাফার দিন ফজর থেকে শুরু করে ১৩ তারিখ আছরের নামাজ পর্যন্ত মোট পাঁচ দিন তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব। আগামীকাল ২৭ মে, ২০২৬ বুধবার ফজরের নামাজ থেকেই এই আমলের সময়সীমা শুরু হচ্ছে।এটি ইবাদতের একটি বিশেষ অংশ।
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এই ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব। মুকিম কিংবা মুসাফির, গ্রামবাসী কিংবা শহরবাসী—সকলের জন্যই এই বিধান প্রযোজ্য। ফরজ নামাজ শেষে সালাম ফেরানোর পর অন্তত একবার এই তাকবির পড়া আবশ্যক, তবে তিনবার পড়া মুস্তাহাব বলে আলেমগণ মত দিয়েছেন।
তাকবিরে তাশরিকের বাক্য হলো: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু; ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার; ওয়ালিল্লাহিল হামদ।’ এই তাকবির মূলত আল্লাহর মহানত্ব ও একত্ববাদের স্বীকৃতির প্রতীক। ইবাদতের এই অনন্য সময়টিতে কোনো কারণে নামাজ কাজা হয়ে গেলে, সেই কাজা নামাজও যদি এই ২৩ ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করা হয়, তবে তখনও তাকবির পড়া ওয়াজিব থাকে।তাকবিরে তাশরিক পড়ার সময় সচেতন থাকা জরুরি।
আমাদের উচিত জিলহজের এই দিনগুলোতে কেবল ফরজ নামাজের পর নয়, বরং সাধারণ সময়েও মহান রবের বড়ত্ব ঘোষণা করা। অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে এই ওয়াজিব আমলটি ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা কাম্য নয়। সালাত শেষ করার পর ইমাম বা মুসল্লিদের ভুলে যাওয়া থেকে বাঁচতে মসজিদগুলোতে এ বিষয়ে আগে থেকে সচেতনতা প্রচার করা প্রয়োজন।সব প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর যথাযথভাবে তাকবিরে তাশরিক আদায়ের মাধ্যমে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের তাওফিক দান করুন। ইবাদতের এই দিনগুলোতে আমরা যেন প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর জিকিরে অতিবাহিত করতে পারি সেই প্রার্থনা রইল। আমিন।
