মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আতা ফলের নতুন বিপ্লব: ভারতে বাড়ছে উৎপাদন ও রপ্তানি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৬, ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

আতা ফলের নতুন বিপ্লব: ভারতে বাড়ছে উৎপাদন ও রপ্তানি

ভারতের খরাপ্রবণ জেলাগুলোতে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে আতা ফল। দক্ষিণ ভারতের কোলারের মতো এলাকায় যেখানে পানির তীব্র সংকট এবং কৃষকরা বোরওয়েল খননে বাধ্য হতেন, সেখানে আতা চাষ এক নতুন আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক যারা পানির অভাবে হতাশ হয়ে শহরমুখী হয়েছিলেন, তারা এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে আবার নিজেদের পৈতৃক ভিটায় ফিরে আসছেন।আতা ফল এখন ভারতের অন্যতম লাভজনক ফসল।

আতা গাছ খরা সহনশীল এবং বাড়তি যত্নের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এই ফলটি আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি এবং এর গঠন অনেকটা কাস্টার্ডের মতো, যার কারণে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অস্টকা শিবারেড্ডির মতো অনেক কৃষক এখন নতুন নতুন জাতের আতা চাষ করছেন এবং গত বছরেই ২৫ টন পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে ভারতে ও বিদেশের বাজারে এই ফলের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

বিজ্ঞানীরাও বসে নেই। ব্যাঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব হর্টিকালচার রিসার্চের বিজ্ঞানীরা ‘আরকা সাহান’ নামে একটি উন্নত হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছেন। প্রথাগত জাতের আতা যেখানে ৩–৪ দিনের বেশি ভালো থাকত না, সেখানে এই নতুন জাতটি সাধারণ তাপমাত্রায় প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। এতে শাঁসের পরিমাণ বেড়েছে এবং বীজের সংখ্যা কমেছে, যা কৃষকদের মুনাফা দ্বিগুণ করে দিয়েছে।পরিবহন ব্যবস্থায় এসেছে আধুনিকায়ন।

মহারাষ্ট্রের কৃষক নবনাথ মালহারি কাসপাতে কয়েক দশকের গবেষণার পর ‘এনএমকে-০১’ নামক একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন। এই জাতটি অত্যন্ত উচ্চ ফলনশীল এবং পরিবহনের জন্য উপযোগী। এখন এই আতা ফল উপসাগরীয় দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। প্রক্রিয়াজাত পাল্প বা শাঁস হিসেবে রপ্তানির ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে, যা আতা চাষের অর্থনীতিতে এক নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছে।

banner
Link copied!