যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হলেও, এখনই কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে ইরান। সোমবার তেহরানে এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ কথা জানিয়েছেন। তার স্পষ্ট বক্তব্য, আলোচনার অধিকাংশ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও চুক্তি স্বাক্ষর এখনই সম্ভব নয়।তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব এখনো বিদ্যমান।
ইসমাইল বাঘেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘স্ববিরোধিতা’ এবং বারবার আলোচনার শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নয়াদিল্লি সফরকালে যখন চুক্তি হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তা এল। রুবিও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চুক্তি সংক্রান্ত খবর আজ আসতে পারে, তবে এ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কিছু নেই।
রুবিও তার বক্তব্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির ইস্যুতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক আলোচনায় রাজি হবে। তবে ইরানি মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবনা ও আচরণের মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো গভীর মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি তার কর্মকর্তাদের কোনো চুক্তিতে তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দিয়েছেন। একদিকে ট্রাম্পের ধীরগতির বার্তা, অন্যদিকে রুবিওর আশাবাদ এবং ইরানের কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়েই দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বর্তমানে এক জটিল মোড় নিয়েছে।
