জার্মানিতে গত ২০২৫ সালে রেকর্ড সংখ্যক অভিবাসী নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দেশটির সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভেল্ট আম জনটাগ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বছর কমপক্ষে ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৫২ জন নতুন করে জার্মান পাসপোর্ট লাভের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। জার্মানির ইতিহাসে একক বছরে এত বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।এর আগের বছর ২০২৪ সালে জার্মান পাসপোর্ট পেয়েছিলেন ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৫ জন।
এই রেকর্ড গড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে জার্মানির নাগরিকত্ব আইনে আনা বড় ধরনের পরিবর্তনকে। আগে জার্মান নাগরিকত্ব পেতে হলে অন্য দেশের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেওয়ার কড়াকড়ি নিয়ম ছিল এবং কমপক্ষে আট বছর দেশটিতে বসবাসের শর্ত ছিল। নতুন আইনে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বাসস্থানের ন্যূনতম মেয়াদ আট বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছরে আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের পর থেকে নাগরিকত্বের আবেদন দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করে।
২০২৪ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীদের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যদিও ২০২৫ সালে সেই বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে, কিন্তু সামগ্রিক সংখ্যাটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান বলছে, নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সিরিয়ার নাগরিকদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, যা মোট আবেদনের প্রায় ২৮ শতাংশ। এরপরই রয়েছে তুরস্কের নাগরিকদের অবস্থান।
তবে এই হিসাব এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়। জার্মানির ১৬টি রাজ্যের মধ্যে ১৪টির তথ্যের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্য মেকলেনবুর্গ-ফোরপমার্ন এবং সাকসেন-আনহাল্টের তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।
আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের নাগরিকত্বের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়ার আক্রমণের পর যারা জার্মানিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ২০২৭ সালের মধ্যে পাঁচ বছরের বাসস্থানের শর্ত পূরণ করবেন। অউরিখ অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্রের তথ্যমতে, ২০২৭ সালের বসন্তের মধ্যে ইউক্রেনীয়রা আবেদনের জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন। যেহেতু ইউক্রেনীয় শরণার্থীরা দেশটিতে আসার পর থেকেই কাজের অনুমতিসহ পূর্ণ বাসস্থানের সুবিধা পেয়েছিলেন, তাই তাদের নাগরিকত্বের পথ অন্যান্য শরণার্থীদের তুলনায় কিছুটা সহজ। সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনেকে নাগরিকত্বের দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
