মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাজারো পাকিস্তানি শিয়াকে বহিষ্কার আমিরাতের: নেপথ্যে কী?

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : মে ২৫, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

হাজারো পাকিস্তানি শিয়াকে বহিষ্কার আমিরাতের: নেপথ্যে কী?

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হাজার হাজার পাকিস্তানি শিয়া মুসলিমকে বহিষ্কার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রভাব ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই বহিষ্কারের ঘটনাটি সামনে এসেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি হারানোর পাশাপাশি তারা তাদের সঞ্চিত অর্থ ও ব্যক্তিগত মালামাল থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।সাম্প্রতিক সময়ে শতাধিক শিয়া মুসলিম পাকিস্তান ফিরেছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রায় সাত হাজার ৫০০ পাকিস্তানি শিয়াকে আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিন। সংগঠনটির মুখপাত্র মহসিন আবিদি দাবি করেছেন, বহিষ্কারের এই তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। চাকরি ও দীর্ঘদিনের আবাসন থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাদের আটক, জিজ্ঞাসাবাদ এবং বহিষ্কারের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই এই বহিষ্কারের ঘটনা আরও বেগবান হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আমিরাত সরকার বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং আমিরাতের স্থানীয় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য এই ঘটনাটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি আমিরাতে বসবাস ও কাজ করছেন, যাদের পাঠানো বছরে ৬০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় আকারে বহিষ্কারের ফলে প্রবাসীদের আয়ের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা দেশটির নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

এখন দেখার বিষয়, পাকিস্তান সরকার কূটনৈতিকভাবে এই সংকট কীভাবে মোকাবিলা করে। সরকার গোপনে পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেলেও, জনস্বার্থে বা প্রবাসীদের সুরক্ষায় প্রকাশ্যে কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখনো দৃশ্যমান নয়।

banner
Link copied!