যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পশায়ারে দুই কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিন কিশোর অপরাধীকে কারাদণ্ড না দেওয়ায় গভীর শোক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জিজেল পেলিকোত। ফ্রান্সের আলোচিত এই ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী ও ন্যায়বিচারের প্রতীক পেলিকোত বিসিবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই রায়কে ভুক্তভোগীদের জন্য বড় আঘাত বলে মন্তব্য করেছেন।ঘটনাটি গত নভেম্বরে হ্যাম্পশায়ারের ফর্ডিংব্রিজে ঘটেছিল।
আদালতের রায়ে তিন কিশোর অপরাধীকে কারাদণ্ড দেওয়ার পরিবর্তে যুব পুনর্বাসন আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক এই রায় দেওয়ার সময় যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি খুব কম বয়সী এই কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। তবে জিজেল পেলিকোত এই যুক্তির বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ এবং ন্যায়বিচারের কাজ হলো অপরাধীর নাম ঘোষণা করা ও ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা স্বীকার করা।
পেলিকোত নিজেই ফ্রান্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী। সেখানে তার স্বামী ডোমিনিক পেলিকোত তাকে অচেতন করে বহু ব্যক্তিকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর তিনি আইনি নাম গোপন না করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগী কিশোরীদের সাহস ও শক্তিকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একজনের মতে, এই রায় তার মুখের ওপর পাথরের আঘাতের মতো।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও এই রায়কে হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল লর্ড রিচার্ড হারমার এই রায়ের বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্রমণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিরাপত্তা ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।
