যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত ও দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টাইনের অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের অধিকার ও আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ম্যানহাটনের যে কারাগারে ২০১৯ সালে এপস্টাইন মারা যান, সেখান থেকে মাত্র এক মাইল দূরে ট্রাইবেকা এলাকার একটি গ্যালারিতে এই বিশাল নথিপত্র জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই অপরাধ সংক্রান্ত প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নথিপত্র এখানে সংকলিত হয়েছে।এই বিশাল নথিপত্র মোট ৩ হাজার ৪৩৭টি ভলিউমে বাঁধাই করে গ্যালারির দেয়ালে সাজানো হয়েছে।
প্রদর্শনীটির নামকরণ করা হয়েছে “দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জেফ্রি এপস্টাইন মেমোরিয়াল রিডিং রুম”। এটি মূলত ‘ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমারি ফ্যাক্টস’ নামক একটি অলাভজনক সংস্থার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে, যারা মূলত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এপস্টাইনকে মানব পাচার ও যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল, কিন্তু এক মাস পরেই নিউ ইয়র্কের জেলখানায় তার রহস্যজনক আত্মহত্যার কারণে ভুক্তভোগীরা চূড়ান্ত আইনি বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এই রিডিং রুমটি মূলত সেইসব মামলার ওপর আলোকপাত করার একটি প্রচেষ্টা, যা কখনো আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি।
সংরক্ষিত এই নথিপত্রগুলো ‘এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর অধীনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বইয়ের তাকগুলোতে আইনি দলিলের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনার সময়রেখা, দর্শনার্থীদের হাতে লেখা নোট এবং এই অপরাধ থেকে বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের প্রতি উৎসর্গীকৃত একটি স্মারক স্থান রাখা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে এই রিডিং রুমটি খোলার পর থেকে সেখানে ভুক্তভোগী ও গবেষকদের নিয়মিত যাতায়াত লক্ষ্য করা গেছে।
১৭ বছর বয়সে এপস্টাইনের নির্যাতনের শিকার হওয়া লারা ব্লুম ম্যাকগি গত সপ্তাহে এই স্মারক কক্ষটি পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এই রিডিং রুমের ভেতর তিনি এক ধরনের মানবিক সান্ত্বনা খুঁজে পেয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে তাদের জীবন এবং তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়গুলো হারিয়ে যায়নি, বরং তা তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্ববাসীর সামনে উন্মুক্ত হয়েছে।
