সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সৌদি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

সৌদি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে হুথিরা

সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে ব্যাপক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমানঘাঁটির ভেতরে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। তবে রিয়াদের পক্ষ থেকে এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

লোহিত সাগর তীরবর্তী সংঘাতে এই ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে দাবি করেন, খামিস মুশাইতের ওই ঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, সামরিক রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং গোলাবারুদের ডিপো লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। তাদের দাবি, গত পাঁচ দিনে ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে সৌদি জোটের পক্ষ থেকে চালানো তিন শতাধিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ খামিস মুশাইত এলাকায় সংক্ষিপ্ত সতর্কবার্তা জারি করে পরবর্তী সময়ে বিপদ কেটে গেছে বলে নাগরিকদের আশ্বস্ত করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, তেহরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত হামলার মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার উপসাগরীয় অংশীদারদের পাশে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং হোরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় মিত্ররা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ রণক্ষেত্রেও হুথি যোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব এল-মান্দেব প্রণালীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ এবং উপকূলীয় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বিদ্রোহীরা। একই সাথে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সরকারি বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে হুথি যোদ্ধারা তাইজের পশ্চিম প্রান্তে ঢুকে পড়েছে।

এই বহুমুখী সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে মানবিক বিপর্যয় আরো গভীর হয়েছে এবং নতুন করে পঁচাশি হাজারেরও বেশি বেসামরিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট উহলিঙ্গার জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের মূল নৌপথ এবং সৌদি জ্বালানি পরিবহন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ায় ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যেতে বাধ্য হতে পারে। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিক আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ এড়িয়ে চললেও, লোহিত সাগরে হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমা মিত্রদের ওপর সামরিক হস্তক্ষেপের চাপ তীব্রতর করছে।

banner
Link copied!