কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে এমন আশঙ্কায় এই প্রযুক্তির গবেষণার গতি শ্লথ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা, বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে। এনথ্রপিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী দারিয়ো আমোদেই সম্প্রতি এই খাতের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি কমিয়ে আনার প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা। উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত কিছু গবেষকও জানিয়েছেন যে শক্তিশালী মডেলগুলোর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে তারা গভীরভাবে শঙ্কিত।
তবে এই গতি কমানোর প্রস্তাব বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মধ্যে জটিল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রধান উদ্বেগগুলোর একটি হলো চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তীব্র ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কোনো সুযোগ তাদের নেই। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি উন্নয়ন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে, তবে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো সেই সুযোগ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে পারে। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো এখানেও কোনো পক্ষ প্রথমে পিছিয়ে যেতে প্রস্তুত নয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এড জিটরন জানিয়েছেন, গতি কমানোর প্রকৃত অর্থ কী এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে কে পর্যবেক্ষণ করবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। এনথ্রপিক প্রধানের তিন দফা প্রস্তাবে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ এবং বৈশ্বিক নীতিমালার কথা বলা হলেও তা কার্যকর করার মতো আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি। একই সাথে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা না আসায় প্রযুক্তি খাতের আর্থিক স্থায়িত্ব নিয়েও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক প্রযুক্তি উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়েন্ডি হল সতর্ক করেছেন যে যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কোনো শক্তিশালী ব্যবস্থা চালু করা দায়িত্বহীনতার শামিল।
কীভাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে এই প্রযুক্তিকে শৃঙ্খলিত করা যাবে সে বিষয়ে রাষ্ট্রগুলোর ঐকমত্য এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
