সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সেপ্টেম্বর রিসেট: দৈনন্দিন অভ্যাস বদলানোর সহজ বৈজ্ঞানিক কৌশল

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

সেপ্টেম্বর রিসেট: দৈনন্দিন অভ্যাস বদলানোর সহজ বৈজ্ঞানিক কৌশল

গ্রীষ্মের অনিয়মিত দিনগুলো কাটিয়ে কাজে বা পড়াশোনায় ফেরার সময় হিসেবে সেপ্টেম্বর মাসটি অনেকের জীবনে নতুন এক পর্ব তৈরি করে। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ কিংবা ছুটির আমেজ কাটিয়ে অফিসে ফেরার এই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে "সেপ্টেম্বর রিসেট"। এটি মূলত বছরের শুরুর কঠোর সংকল্পের একটি সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ বিকল্প, যার মাধ্যমে মানুষ জটিল কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দৈনন্দিন রুটিনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে।

এই পরিবর্তনটি জানুয়ারির বাড়তি মানসিক চাপ থেকে অনেককেই মুক্তি দেয়।

যুক্তরাজ্যের নর্থহ্যাম্পটনের চব্বিশ বছর বয়সী কনটেন্ট নির্মাতা ও পডকাস্ট সঞ্চালক কামি সোফিয়ার মতে, ছুটির দিনগুলোতে পরিবার কিংবা সন্তানদের নিয়ে যে অনিয়ম তৈরি হয়, তা কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার জন্য সেপ্টেম্বর সবচেয়ে ভালো সময়। জানুয়ারি মাসে এসে সব পরিকল্পনা একবারে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মানুষ যেভাবে হতাশ হয়ে পড়ে, সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করলে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয় না। বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বাস ফারপ্ল্যাঙ্কেনের গবেষণাও এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে। তার গবেষণা অনুযায়ী, বাসস্থান বদল বা বড় কোনো পরিবর্তনের মুখে থাকা ব্যক্তিরা যেকোনো ইতিবাচক আচরণ নিজেদের জীবনে স্থায়ী করতে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি সক্ষম হন।

দৈনন্দিন যাতায়াত বা কাজে বিকল্প কোনো ভালো অভ্যাস যোগ করার এটিই সেরা সুযোগ।

তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দীর্ঘ তালিকা বা জটিল ছকের মাধ্যমে শুরু করতে বিশেষজ্ঞরা নিষেধ করছেন। অতিরিক্ত বড় পরিবর্তন একসঙ্গে আনতে গেলে মানুষ সহজেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর বদলে বছরের শুরুতে ঠিক করা লক্ষ্যগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখে সেই অনুযায়ী ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। কামি সোফিয়া পরামর্শ দিয়েছেন মাত্র তিনটি ছোট ও অবশ্যপালনীয় কাজের মাধ্যমে এই অভ্যাস শুরু করার। উদাহরণ হিসেবে সকালের নাস্তায় সামান্য ফল রাখা, রাতের খাবারে শাকসবজি যোগ করা এবং সকালে কফি পান করার আগে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করার মতো সহজ পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

অভ্যাস ধরে রাখার সবচেয়ে বড় কৌশল হলো কোনো দ্বিধা ছাড়াই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথ সহজ করে রাখা।

রবিবারের সকালে পরবর্তী পুরো সপ্তাহের খাবারের তালিকা এবং শারীরিক অনুশীলনের সময়সূচি আগে থেকেই নির্ধারণ করে নিলে কাজের দিনে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয় না। এমনকি টানা তিন দিনের নাস্তা আগে থেকেই তৈরি করে রাখলে সকালে আলাদা করে সময় নষ্ট হয় না এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যায়। অধ্যাপক ফারপ্ল্যাঙ্কেন মনে করেন, একটি নতুন অভ্যাস তখনই দীর্ঘস্থায়ী হয় যখন সেই কাঙ্ক্ষিত আচরণটি মানুষের জন্য সবচেয়ে সহজ ও সুবিধাজনক বিকল্প হিসেবে উপস্থিত থাকে।

নির্দিষ্টভাবে কোথায়, কখন এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা আগে থেকে ঠিক করা থাকলে যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়। দৈনন্দিন বাজারে যাওয়ার সময় খাদ্যের পুষ্টি উপাদান সচেতনভাবে যাচাই করার মতো ছোট অভ্যাসগুলো নিয়মিত পালনের মধ্য দিয়েই একটি পরিবর্তন স্থায়ী রূপ নেয়।

banner
Link copied!