ইয়েমেন থেকে জিবুতিতে চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় চৌদ্দশত শরণার্থী পালিয়ে এসেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ, ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এবং আল জাজিরা জানিয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে হুথি যোদ্ধারা নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় প্রাণভয়ে এই মানুষগুলো সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার উপকূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। রবিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যে জানা যায় যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই অভিবাসন প্রবাহ তীব্র রূপ নিয়েছে।
এর আগের দিন উপকূলীয় শহর ওবকে পৌঁছানো পাঁচশত শরণার্থীর একটি দলকে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়, যাদের নৌকার জ্বালানি বাব আল-মান্দেব প্রণালী অতিক্রমের সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছেন। ইয়েমেনের উপকূল থেকে মাত্র বিশ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ওবক শহরটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা ছেড়ে আসা শরণার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
সংকটের মুখে থাকা সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মানবিক সহায়তা সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম জানিয়েছেন যে ওবকের উপকূলে পৌঁছানো ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন এবং আগামী দিনগুলোতে এই সংখ্যা আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের কারণে প্রায় ছিয়াত্তর হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চারগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার ২০২৬ সালের মার্চ মাসের পরিসংখ্যান অনুসারে জিবুতিতে ইতিমধ্যে ছত্রিশ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া এবং ইয়েমেন থেকে সেখানে পৌঁছেছেন।
উম্মাহকণ্ঠ ডট কম অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পেরেছে যে লোহিত সাগরের কৌশলগত জলপথে চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে সাধারণ নাগরিকদের সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার এই বিপজ্জনক পথ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
