যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের এগারো তারিখের হামলার পঁচিশ বছর পূর্তিতে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধে নিজেদের নীতিগত ভুল সিদ্ধান্তের বিবরণ তুলে ধরেছেন দেশটির সাবেক শীর্ষ কূটনীতিক রাষ্ট্রদূত জালমে খলিলজাদ, আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আল জাজিরার একটি বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান যে চরম ভীতি ও তীব্র ক্ষোভ থেকে নেওয়া ওয়াশিংটনের একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত পরবর্তী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ভারসাম্যকে গভীরভাবে অস্থির করে তুলেছিল।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে দায়িত্ব পালন করা এই প্রবীণ কূটনীতিক পরবর্তীতে আফগানিস্তান, ইরাক এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছিলেন।
খলিলজাদ উল্লেখ করেন যে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষমতাসীন তালেবানের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতায় না যাওয়া একটি মারাত্মক ভুল ছিল। যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যে তালেবান নেতৃত্ব একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী ছিল এমন বিবরণ থাকলেও তৎকালীন ওয়াশিংটন প্রশাসন চরম ক্ষোভ ও সামরিক অহংকারের কারণে যেকোনো আলোচনার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল। তাঁর মতে, সেই মুহূর্তে তালেবানকে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা গেলে দুই দশকব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘাতের গতিপথ ভিন্ন হতে পারত।
পরবর্তীতে ২০০৩ সালে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরাকে সামরিক আগ্রাসন চালানোর সিদ্ধান্তের ভিত্তিও ছিল গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ।
ইরাকের তৎকালীন নেতা সাদ্দাম হোসেনের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে দাবি করে যে সামরিক আগ্রাসন চালানো হয়েছিল, তার পেছনের গোয়েন্দা তথ্যগুলো যে বিভ্রান্তিকর ও ভুল ছিল তা স্বীকার করেন এই কূটনীতিক। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে নাইন ইলেভেনের ঘটনা না ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কখনোই ইরাকে সামরিক আক্রমণ চালাত না, তবে গোপন হামলার ভীতি থেকে তৎকালীন নীতি ব্যাপক আগ্রাসনে রূপ নিয়েছিল।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পাঁচ বছর পর বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে খলিলজাদ মন্তব্য করেন যে দীর্ঘ বিশ বছর পর যুদ্ধের ইতি টানা যৌক্তিক পদক্ষেপ ছিল। বর্তমানে কাবুলের ক্ষমতায় থাকা তালেবান প্রশাসন সামগ্রিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের স্বার্থের অনুকূলে ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করেন তিনি।
