শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন সমীকরণ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন সমীকরণ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোখা বন্দর দখল এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার প্রেক্ষাপটে রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের মধ্যকার ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন একক নিরাপত্তা ছাতার কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পরবর্তীতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির রূপ নেয়। রিয়াদে সদর দফতর স্থাপন করে তিন বছরের জন্য এই জোটের যৌথ সচিবালয়ের সভাপতিত্বের দায়িত্ব নিয়েছে পাকিস্তান।

তবে একটি পূর্ণাঙ্গ যৌথ সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো পূর্ণ রূপ পায়নি।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সম্প্রতি জোর দিয়ে জানিয়েছেন যে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের অযাচিত আক্রমণ বা সংঘাতের বিস্তৃতি ঘটলে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হবে। অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ব্যাখ্যা করেছেন যে এই জোটের কার্যপ্রণালী উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটের কাঠামোর অনুরূপ নীতিতে পরিচালিত হবে। এর অর্থ হলো আক্রান্ত পক্ষকে নিজে সক্রিয়ভাবে সুনির্দিষ্ট সামরিক সহায়তার রূপরেখা চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানাতে হবে। এর আগে যেমন তুরস্কের বিমান ভূপাতিত হওয়ার সময় আঙ্কারা সরাসরি সেনা অভিযানের অনুরোধ না করে আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তার আবেদন করেছিল, তেমনি সৌদি আরব যতক্ষণ না সুনির্দিষ্টভাবে সহায়তা চাইছে ততক্ষণ পর্যন্ত সরাসরি পদক্ষেপের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত রিয়াদ এই চুক্তি সক্রিয় করার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাকিস্তান বা তুরস্কের কাছে পেশ করেনি।

কূটনৈতিক ফ্রন্টে তীব্র তৎপরতা শুরু হয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইসলামাবাদ স্পষ্ট ভাষায় তেহরানকে হুথিদের হামলা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে যে সৌদি আরবের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চুক্তির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তানে অতীতের আফগান যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী অভ্যন্তরীণ ক্ষত, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত প্রদেশের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইয়েমেনের ভূখণ্ডে সরাসরি সেনা পাঠিয়ে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত কম হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

উন্মোচিত বাস্তবতায় ধারণা করা হচ্ছে যে ইরানকে কূটনৈতিক চাপে রাখার পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবে নিজেদের বিমান ও প্রযুক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরবে পাকিস্তানের বিমান বহরের অংশ হিসেবে ষোলটি বহুমুখী যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ সরাসরি হামলার মুখোমুখি হলে বহুজাতিক নৌ-টহলের মাধ্যমে বাব আল মান্দাব প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষার সমন্বিত প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে, তবে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপে না গিয়ে সার্বিক উত্তেজনা প্রশমনই এখন পর্যন্ত প্রধান কৌশল হিসেবে বজায় রাখা হয়েছে।

banner
Link copied!