তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বি-খিম শুক্রবার গণতন্ত্র বিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ইতালিতে বিরল সফরে পৌঁছেছেন বলে দ্বীপটির রাষ্ট্রপতির কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, রয়টার্স এবং আল জাজিরা জানিয়েছে। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং এই সফরে তাঁর সাথে রয়েছেন। ইতালির ভেনতুতেনে দ্বীপে আয়োজিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্মেলনে অংশ নিতে তাঁদের এই আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় জানিয়েছে, সফর শেষে তাঁরা তাইওয়ানে ফিরে আসার পর পুরো কার্যসূচি সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ইউরোপের মাটিতে তাইওয়ানের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন সরাসরি উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট পিনা পিচিরনো জানিয়েছেন, সম্মেলনে সিয়াও বি-খিমের নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁর ইতালি পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সফরের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল। পিচিরনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন, ইউরোপের ভূখণ্ডে কাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং কোন কণ্ঠস্বর শোনা যাবে, তা কোনো বাইরের শক্তি বা হুমকি দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক আলোচনায় কারা অংশ নেবেন তা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব নয় এবং স্বৈরতন্ত্রের সাথে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না।
সাধারণত তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিভিন্ন সময়ে ইউরোপীয় দেশগুলোতে সংক্ষিপ্ত সফরে গেলেও ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো শীর্ষ সাংবিধানিক কর্মকর্তার সফর একেবারেই নজিরবিহীন। এর প্রধান কারণ হিসেবে বেইজিংয়ের সম্ভাব্য কূটনৈতিক বিরোধিতার ঝুঁকিকে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বমঞ্চে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে চীন, যা তাইপেই কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতোই ইতালির সাথে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই।
বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী ভেনতুতেনে সম্মেলনটি শনিবার পর্যন্ত চলবে। মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা বিষয়ক এই ফোরামে ইউক্রেনের নাগরিক অধিকার বিষয়ক কেন্দ্রের সভাপতি এবং ২০২২ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ওলেক্সান্দ্রা মাতভিচুক অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বছর ব্রাসেলসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত চীন বিষয়ক আন্তঃসংসদীয় জোটের বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছিলেন সিয়াও বি-খিম। ইতালি সফর শেষ করে তাইওয়ানিজ প্রতিনিধি দলের পরবর্তী কোনো ইউরোপীয় কর্মসূচি রয়েছে কিনা তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
