শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

গাজা সংক্রান্ত ইসরায়েলি চলচ্চিত্রে করতালির নজির

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম

গাজা সংক্রান্ত ইসরায়েলি চলচ্চিত্রে করতালির নজির

গাজা উপত্যকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার প্রয়োগের মাধ্যমে সামরিক লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ওপর নির্মিত একটি অনুসন্ধানী তথ্যচিত্র শুক্রবার ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর দীর্ঘ পঁচিশ মিনিট দাঁড়িয়ে অভিবাদন পেয়েছে বলে আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে। আশি মিনিট দৈর্ঘ্যের এই তথ্যচিত্রটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম এবং র‍্যাচেল জোর। এর আগে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে অপর এক তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য তাঁরা যৌথভাবে অস্কার সম্মাননা পেয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তথ্যচিত্রটির আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনীতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

প্রায় তিন বছরের বিশদ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি এই তথ্যচিত্রে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এতে অংশ নেন। তাঁদের চেহারা ও কণ্ঠস্বর ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন করে তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে রাতের আঁধারে এসব বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। বার্তা সংস্থা এএফপিকে পরিচালক আব্রাহাম জানিয়েছেন, সামরিক অভিযানে যুক্ত ব্যক্তিরাই সরাসরি ক্যামেরার সামনে তুলে ধরেছেন সেখানে কীভাবে প্রাণঘাতী ব্যবস্থাগুলো পরিচালিত হতো।

তথ্যচিত্রটিতে বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তি ল্যাভেন্ডারের কার্যক্রমের বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। সেখানে দেখানো হয় কীভাবে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে দূরবর্তী কম্পিউটার ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা হতো। সাক্ষাৎকারে কয়েকজন সাবেক কর্মী উল্লেখ করেন যে প্রক্রিয়াটি একটি কারখানার মতো ব্যাপক মাত্রায় পরিচালিত হতো এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের কারণে তা ভিডিও গেম খেলার মতো মনে হতো।

সামরিক সূত্রের বরাতে তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়, গোয়েন্দা কর্মীরা স্বচক্ষে জানতেন যে লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেসামরিক বাড়িঘরে সাধারণ পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। পরিচালকদের মতে, এই প্রতিবেদন ও চলচ্চিত্রটি পশ্চিমা সরকারগুলোর ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে যাতে তারা অন্ধ সমর্থন পরিহার করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। ব্রিটেনের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক জিম উইলসন এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সহযোগিতায় এই তথ্যচিত্রটি নির্মিত হয়।

চলচ্চিত্র শিল্প বিষয়ক একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রদর্শনীটিকে অত্যন্ত জরুরি এবং বিবেক নাড়া দেওয়া হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।

banner
Link copied!