শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

সৌদি আরবের পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, বন্ধ তেল সরবরাহ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

সৌদি আরবের পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, বন্ধ তেল সরবরাহ

ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোনের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিজেদের কৌশলগত পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন শুক্রবার সতর্কতামূলক পদক্ষেপে বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব, দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স এবং বিবিসি নিউজ নিশ্চিত করেছে।

রিয়াদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া এক হাজার দুইশত কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন অবকাঠামোয় একাধিক ড্রোন আঘাত হানে। হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং পাম্পিং স্টেশনের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নিরূপণে কারিগরি দল কাজ করছে।

উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে আক্রান্ত তেল পাম্পিং স্টেশন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের চিহ্ন ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান তেল ক্ষেত্রগুলোকে সরাসরি যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল এই লাইনটি। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে প্রতিদিন বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাংশ তেল এই রুটের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হতো।

হামলার ঘটনা স্বীকার করে নিয়ে ইরাক সরকার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে যে তাদের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে ড্রোনগুলো ওড়ানো হয়েছিল। ঘটনার পরপরই ওই অঞ্চলের সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে বাগদাদকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিতে রিয়াদ এই মুহূর্তে কোনো সরাসরি সামরিক জবাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সার্বভৌমত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার দেশটির রয়েছে বলে মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে এটিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য চরম বিপজ্জনক উস্কানি হিসেবে অভিহিত করেছে।

একই সময়ে ইয়েমেনের উপকূলে নতুন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লোহিত সাগরের বাব আল মান্দাব প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপ এবং মোখা বন্দর হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার দাবি ওঠার পর বিকল্প জলপথের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এই যৌথ সংকটের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম একশত ডলার ছাড়িয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি পাইপলাইনে কখন নাগাদ তেল পাম্পিং পুনরায় স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত সময়সীমা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

banner
Link copied!