বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ইরানি মিসাইল হামলা

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে ইরানি মিসাইল হামলা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতের অংশ হিসেবে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে তেহরান। আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক তেল ট্যাংকার হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি এই সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম ও সদস্যরা অবস্থান করায় এটি বর্তমানে তেহরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা কুড়িটি ব্যালিস্টিক মিসাইলের মধ্যে আঠারোটি সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে, এবং বাকি দুটি মিসাইল খোলা মাঠে এসে পড়েছে। এই তীব্র হামলার ঘটনায় সৌভাগ্যবশত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওয়াশিংটনের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে নিক্ষিপ্ত এই মিসাইল হামলাটি কার্যকর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি এবং সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।

আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে যে, মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটি নামে পরিচিত এই আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা এফ-তিরিশ, এফ-ষোলো এবং এফ-পনেরো যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মোতায়েনস্থলগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে এবং শত্রুর ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে স্বাধীন সূত্র এবং মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে ইরানি এই আক্রমণ বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন তেল ট্যাংকারের ওপর পূর্বের মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই নতুন ধাপের সামরিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। জর্ডান সরকার তাদের দেশের ভূখণ্ডে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং আঞ্চলিক মিত্ররা বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

banner
Link copied!