মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দ্বন্দ্ব

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৪৪ পিএম

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দ্বন্দ্ব

দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ এবং তেল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মিলেই দাবি করেছেন যে পরিবর্তনের হাওয়া তার দেশের দাবির অনুকূলে রয়েছে। এর পরেই দুই দেশের মধ্যে এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সাথে জড়িত ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনায় এই দ্বীপগুলো মালভিনাস নামে পরিচিত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সংক্রান্ত তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাজ্য যদি তাদের ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি না করে, তবে দক্ষিণ আটলান্টিক দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরোধিতাও করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এর জবাবে ফকল্যান্ডের প্রতি দেশটির অবিচল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান যে দ্বীপবাসী ব্রিটিশ হিসেবে থাকতে চায় বলেই ফকল্যান্ড ব্রিটিশ অধিকারে রয়েছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবে থাকতে চাওয়ার পক্ষে মত দেওয়ায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড স্পষ্ট জানিয়েছেন যে যুক্তরাজ্য তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দৃঢ়ভাবে সমুন্নত রাখবে। এর আগে ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে এই দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১০ সপ্তাহব্যাপী একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যা ৭৪ দিন স্থায়ী হওয়ার পর আর্জেন্টিনার সৈন্যদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। ওই সংঘাতে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হয়েছিলেন।

আর্জেন্টিনার সংবিধানে এই দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিষয়টি প্রায়ই দেশটির রাজনীতিতে জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। প্রেসিডেন্ট মিলেই এই দ্বীপগুলোকে দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় স্বার্থে তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন। আগামী বছরের অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে নিম্নমুখী জনপ্রিয়তার মুখে থাকা এই ডানপন্থী নেতা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে নানা সংস্কার পদক্ষেপ নিলেও এই জাতীয় ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। বিশেষ করে দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে সি লায়ন নামক গভীর সমুদ্রের তেল উৎপাদন প্রকল্পটিকে তিনি আর্জেন্টিনার দাবির প্রতি স্পষ্ট হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

আগামী ২০২৮ সাল নাগাদ তেল উৎপাদন শুরু হওয়ার প্রত্যাশিত এই প্রকল্পটি যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্জেন্টিনা একে তাদের নিজস্ব জলসীমায় অবৈধ সম্পদ শোষণ বলে গণ্য করছে। অন্যদিকে, এই প্রকল্পের সাথে জড়িত রকবর্ডার এক্সপ্লোরেশন এবং নাভিটাস পেট্রোলিয়াম যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকারের প্রদত্ত লাইসেন্স এবং যুক্তরাজ্যের সমর্থনের ভিত্তিতে তারা প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী চালিয়ে যাবে। মার্কিন প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং ভূরাজনৈতিক নানা সমীকরণের মাঝে এই বিরোধ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াচ্ছে।

banner
Link copied!