মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

যুদ্ধ ও সংকটে বিশ্বজুড়ে জাহাজের জ্বালানি সংকট তৈরি

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:০২ পিএম

যুদ্ধ ও সংকটে বিশ্বজুড়ে জাহাজের জ্বালানি সংকট তৈরি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধ এবং রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক জাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ট্রানজিট নিষেধাজ্ঞা এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জাহাজগুলো মূলত হেভি ফুয়েল অয়েল বা বাংকার ফুয়েল ব্যবহার করে তাদের ইঞ্জিন সচল রাখে, যা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপাদিত হয়। জ্বালানি বাণিজ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে প্রতিদিন গড়ে চার লাখ সাতচল্লিশ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। এনার্জি অ্যাসপেক্টস নামক জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের বাজারে প্রতিদিন দুই লাখ আঠারো হাজার ব্যারেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের চলমান সংঘাত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ব উৎপাদিত তেল ও গ্যাসের প্রায় কুড়ি শতাংশ সরবরাহ হতো, যা বর্তমান যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিত সাগর ও বাবেল মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ক্রমাগত হামলার ফলে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য মারাত্মক বাধার মুখে পড়েছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রধান প্রধান তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে দেশটির জ্বালানি তেল রপ্তানি রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সামগ্রিক সরবরাহ সংকটের মুখে পড়েছে। শোধনাগারগুলো কম তেল পাওয়ার কারণে অপেক্ষাকৃত কম লাভজনক জাহাজের জ্বালানি উৎপাদনের পরিবর্তে ডিজেল ও পেট্রোলের মতো উচ্চ মুনাফা অর্জনকারী জ্বালানি উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলের দাম ও চাহিদা অত্যধিক বেশি থাকায় শোধনাগারগুলো ভারী অবশিষ্টাংশগুলোকে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিটের মাধ্যমে ডিজেলে রূপান্তরিত করছে। এর ফলে সামুদ্রিক জাহাজগুলোর জন্য নির্ধারিত বাংকার ফুয়েল বা জ্বালানি তেল তৈরির কাঁচামাল কমে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাড়া ও পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশ্ব বাণিজ্যের মসৃণ গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সমুদ্রপথে এই জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

banner
Link copied!