শত শত বছর ধরে চলা দাসপ্রথার ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন জমা দিতে যাচ্ছে জ্যামাইকা, কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে। সোমবার লন্ডনে শুরু হওয়া সফরের সময় জ্যামাইকান প্রতিনিধিদল এই পিটিশনটি জমা দেবে, যা কোনো ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশের জন্য আইনি মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রথম ঘটনা।
জ্যামাইকার সংস্কৃতি ও লিঙ্গ বিষয়ক মন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদল ঐতিহাসিক অন্যায়ের আইনি প্রতিকার খুঁজছে।
দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পিটিশনের মাধ্যমে রাজা চার্লসকে তিনটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির কাছে বিষয়টি হস্তান্তরের অনুরোধ করা হবে। ১৮৩৩ সালের জুডিশিয়াল কমিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সম্রাটের কাছে আইনি বিষয়গুলো এই আদালতে পাঠানোর ক্ষমতা রয়েছে। প্রশ্নগুলো হলো: ব্রিটিশ সাধারণ আইনের অধীনে আফ্রিকানদের দাস বানানো বৈধ ছিল কিনা, এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা এবং দাসপ্রথার কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রতিকার প্রদানে যুক্তরাজ্যের কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে কিনা। পাশাপাশি, ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত জ্যামাইকার সাংস্কৃতিক নিদর্শনগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা করবে এই প্রতিনিধিদল।
বাকিংহাম প্যালেসের একজন মুখপাত্র জ্যামাইকার এই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে তারা প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির সামনে পিটিশনটি উপস্থাপনের বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজার সাংবিধানিক ভূমিকা থাকলেও এই দাবির মূল বিষয়বস্তু নির্ধারণে তার কোনো সরাসরি ভূমিকা নেই। অন্যদিকে, জ্যামাইকার মন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ এখনই আর্থিক ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন যে তারা প্রথমে আইনি উত্তরগুলো পেতে চান।
ঐতিহাসিক তথ্যানুযায়ী, সতেরো শতক থেকে উনিশ শতকের শুরু পর্যন্ত ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা ছয় লাখ থেকে দশ লাখ আফ্রিকানকে জোরপূর্বক দাস বানিয়ে জ্যামাইকায় নিয়ে যায়। এরপর ১৮৩৩ সালে দাসপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্য সরকার উল্টো দাস মালিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই কোটি সত্তর লাখ ডলার প্রদান করেছিল, যার ঋণ শোধ করতে তাদের ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময় লেগেছিল। জ্যামাইকা সরকারের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের কাছে তাদের প্রায় এক হাজার কোটি ডলার পাওনা রয়েছে, যদিও যুক্তরাজ্য ঐতিহাসিক দাসপ্রথার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
