ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব ইসরায়েল সরকারের ওপরই বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি, আল জাজিরা এবং টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের পরিকল্পিত হামলা ও সহিংসতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার রামাল্লার নিকটবর্তী তুরমুস আইয়া গ্রাম পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সময় তিনি স্থানীয় ফিলিস্তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ ফিলিস্তিনি-আমেরিকান পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত শনিবার স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের জানান যে সম্প্রদায়গুলোর মানুষের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার রয়েছে এবং এটি নিশ্চিত করার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সরকারের। তুরমুস আইয়া গ্রামে বসবাসরত নাগরিকদের একটি বড় অংশ একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী, যারা সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের দলবদ্ধ হামলা ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছেন। ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা কূটনীতিকদের অবহিত করেন যে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত উপায়ে জমি দখল ও উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে পরিচালিত ধারাবাহিক আগ্রাসন।
উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের এমন চরম কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দখলদার বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের মতে, মাঠপর্যায়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি, জলপাই বাগান এবং যানবাহনে বারবার অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। মার্কিন দূতের সফরের সময় আশপাশের বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি বিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি সফররত মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক বার্তা প্রদর্শন করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মার্কিন দূতের এই পদক্ষেপকে প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন, কারণ ঐতিহাসিকভাবে তিনি বসতি সম্প্রসারণের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তুরমুস আইয়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে শুধুমাত্র মৌখিক সহানুভূতি তাদের সংকট নিরসন করতে পারবে না, বরং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধে সরাসরি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।
ভূখণ্ডটিতে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সামরিক দমনপীড়ন বন্ধ না হলে পশ্চিম তীরে স্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাধারণ নাগরিকদের সম্পত্তি রক্ষা ও চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার দাবি অব্যাহত রয়েছে।
