ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলায় পাঁচজন নিহত ও অপর পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে শনিবার সকালে নিশ্চিত করেছেন দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা, আল জাজিরা জানিয়েছে। ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কামিয়ানস্কে শহরের একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে এই সামরিক আঘাত হানা হয়। একই সঙ্গে রাজধানী কিয়েভ এবং প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বরিস্পিল লক্ষ্য করেও গভীর রাতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। মার্কিন শান্তি দূতদের কূটনৈতিক সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই সমন্বিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব নিয়ে শনিবার মস্কো ও রবিবার কিয়েভ সফরের কথা রয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে তিন দিনের একটি একতরফা যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। ইউক্রেনীয় আইনপ্রণেতা ওলেকসি হনচারেঙ্কো সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন যে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখার এই নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। মাঠপর্যায়ে রুশ বাহিনী গোলাবর্ষণ অব্যাহত রাখায় সম্মুখসারির সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান বজায় রাখে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন যে বিমানবন্দরগুলোতে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানা হয়েছে যাতে আমেরিকান প্রতিনিধিদের বিমান অবতরণ বাধাগ্রস্ত হয়। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে শান্তি উদ্যোগ বানচাল করতেই রাশিয়া এই আক্রমণাত্মক বার্তা দিচ্ছে বলে দাবি করেন কিয়েভের নীতি-নির্ধারকেরা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ জানিয়েছে যে তারা ঝাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংযোগ পুনরুদ্ধারের জন্য একটি স্থানীয় সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এই বিশালাকার পারমাণবিক কেন্দ্রটি গত বিশ আগস্ট থেকে বাইরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় চুল্লিগুলোর শীতলীকরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
উভয় দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা পরমাণু নিরাপত্তা ঝুঁকি হ্রাস এবং যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাপ্তির উপায় খুঁজছেন। মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাবের বিষয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে তাৎক্ষণিক শান্তি আলোচনার জন্য অনুকূল পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে আকাশসীমা সুরক্ষা জোরদার করতে তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নতুন সামরিক সমন্বয় পরিকল্পনা করছে।
