শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব মানচিত্র বদলে আফ্রিকার সঠিক আয়তন দেখাচ্ছে জাতিসংঘ

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

বিশ্ব মানচিত্র বদলে আফ্রিকার সঠিক আয়তন দেখাচ্ছে জাতিসংঘ

বিশ্ব মানচিত্র বদলাতে জাতিসংঘের প্রস্তাব সাধারণ পরিষদে বিপুল সমর্থনে গৃহীত হয়েছে, আল জাজিরা এবং এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস জানিয়েছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটাভুটিতে প্রথাগত মানচিত্রের পরিবর্তে আফ্রিকার প্রকৃত ভৌগোলিক আকার প্রতিফলিত করে এমন নতুন বৈশ্বিক মানচিত্র গ্রহণের প্রস্তাবের পক্ষে একশত চৌষট্টিটি সদস্য দেশ ভোট দেয়। বিশ্ব মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশের স্থলভাগের আয়তন আরও নির্ভুলভাবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের যৌথ উদ্যোগে এই প্রস্তাবটি আনা হয়। ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করে এবং অপর ছয়টি সদস্য রাষ্ট্র ভোটদানে বিরত থাকে।

গৃহীত প্রস্তাবে ইকুয়াল আর্থ মানচিত্র অভিক্ষেপকে বৈশ্বিক মানচিত্রায়নের নির্ভুলতা উন্নত করার জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবটির প্রধান উদ্যোক্তা দেশ টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন যে মানচিত্র শিক্ষা নির্দেশ করে, কল্পনাকে সমৃদ্ধ করে এবং মানুষের সমষ্টিগত মনস্তাত্ত্বিক ধারণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত এই সিদ্ধান্ত আফ্রিকার বাস্তব ভৌগোলিক সত্যকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

কয়েক শতাব্দী ধরে প্রচলিত মার্কেটর অভিক্ষেপের মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে অস্বাভাবিক বড় এবং বিষুবরেখার নিকটবর্তী মহাদেশগুলোকে অনেক ছোট দেখানো হতো। ষোড়শ শতাব্দীতে ইউরোপীয় নাবিকদের সমুদ্রযাত্রার দিকনির্ণয়ের সুবিধার জন্য প্রবর্তিত এই নকশায় গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান দেখানো হয়েছে, অথচ বাস্তবে আফ্রিকা মহাদেশ গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে চৌদ্দ গুণ বেশি বিশালাকার। আফ্রিকার প্রকৃত ভৌগোলিক ক্ষেত্রফল তিন কোটি বর্গকিলোমিটারেরও বেশি, যার মধ্যে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং প্রায় সমগ্র ইউরোপের সমপরিমাণ ভূখণ্ড একসঙ্গে স্থাপন করা সম্ভব। প্রথাগত মানচিত্রের মাধ্যমে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর প্রতি ঐতিহাসিক মনস্তাত্ত্বিক অবমূল্যায়ন তৈরি হয়েছে বলে দীর্ঘকাল ধরে ভৌগোলিক গবেষকেরা সমালোচনা করে আসছেন।

নতুনভাবে সমর্থিত ইকুয়াল আর্থ অভিক্ষেপ পদ্ধতি প্রতিটি মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের আনুপাতিক ভারসাম্য নিখুঁতভাবে রক্ষা করে। এই প্রক্ষেপণে আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং ওশেনিয়ার দেশগুলোর সঠিক স্থলভাগ সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক শ্রেণিকক্ষ এবং নীতিনির্ধারণী ফোরামে ভৌগোলিক তথ্যের ভ্রান্তি দূর হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক মানচিত্রায়নে এ ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কার্টোগ্রাফিক অনুশীলনে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ায় বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ও আন্তর্জাতিক সংস্থায় নতুন মানচিত্র ব্যবহারের প্রক্রিয়া দ্রুতগতি পাবে। ভৌগোলিক বাস্তবতার সঠিক প্রতিফলন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম মৌলিক ধাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া এই প্রস্তাব বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ মানচিত্রায়ন প্রক্রিয়া অবিলম্বে পুনর্গঠনের সুপারিশ করেছে। সদস্য দেশগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকেই সংশোধিত মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক ভূগোলবিদদের একটি যৌথ কারিগরি দল নতুন মানচিত্রের সমন্বিত নির্দেশিকা চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবে।

banner
Link copied!