লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর তিন বছরের ধারাবাহিক সামরিক হামলায় নিহতের সংখ্যা আট হাজার নয়শ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ত্রিশ হাজার ছয়শতে পৌঁছেছে বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, আল জাজিরা জানিয়েছে। বৈরুতের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চালানো অভিযানে আট হাজার ৯২০ জন নিহত এবং ৩০ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তীব্র সামরিক অভিযানের পর থেকেই চার হাজার ৩৫৮ জনের মৃত্যু এবং ১২ হাজার ৩৫৯ জন আহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, গত মার্চ থেকে অ্যাম্বুলেন্স দলের ওপর ইসরায়েলি বাহিনী ১৭৯ বার আক্রমণ চালিয়েছে, যার ফলে অন্তত ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। গত মার্চে বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘাতের দ্বিতীয় ধাপ মারাত্মক রূপ নেয়। এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, এই সহিংসতার কারণে আগস্ট পর্যন্ত তিন লাখ ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কূটনৈতিক উদ্যোগ সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে স্বাক্ষরিত যৌথ সমঝোতা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননের সাতটি শহরে বিমান হামলা ও ভারী কামান দাগা অব্যাহত রয়েছে। কফর রেমানে শুক্রবারের বিমান হামলায় তিনজন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন, যেখানে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম জোর দিয়ে বলেছেন, লেবাননের সার্বভৌম ভূখণ্ড থেকে দখলদার সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি কাঠামো কার্যকর হতে পারে না। রবিবার ভোরেও দক্ষিণ লেবাননের জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় নতুন করে বোমাবর্ষণ চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
