রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে বন্যা ও ধ্বসের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজন জীবিত উদ্ধার

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম

নেপালে বন্যা ও ধ্বসের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজন জীবিত উদ্ধার

নেপালে বন্যা ও ধ্বসের ধ্বংসস্তূপ থেকে দশ দিন পর এক চীনা জলবিদ্যুৎ কর্মী ও এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা, আল জাজিরা এবং রয়টার্স জানিয়েছে। রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় পাহাড়ি জেলা রসুয়ার একটি প্লাবিত জলবিদ্যুৎ সুরঙ্গের দুইশত পঁচিশ মিটার গভীর থেকে শনিবার লু হাইতাও নামের ওই চীনা কর্মীকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনা হয়। একই দিনে প্রতিবেশী নুওয়াকোট জেলায় নিজের ধসে পড়া বসতবাড়ির মাটির নিচ থেকে চৌষট্টি বছর বয়সী চণ্ডিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের এক নারীকে ধ্বংসাবশেষ খুঁড়ে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

গত ছাব্বিশে আগস্ট হিমালয় পর্বতমালার একটি বিশালাকার হিমবাহ আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদামাটি ও বরফের তীব্র স্রোত উপত্যকাজুড়ে প্রবাহিত হওয়ার পর থেকেই তারা সেখানে আটকা পড়েছিলেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই নাটকীয় সফল উদ্ধার অভিযানের ফলে বন্যাকবলিত ভূগর্ভস্থ সুরঙ্গগুলোতে নিখোঁজ শত শত মানুষের এখনো জীবিত থাকার নতুন আশা জেগে উঠেছে। আপার ত্রিশূলী এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে আটকে থাকা ওই চীনা কর্মীকে নেপাল সেনাবাহিনী ও বিদেশি দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের যৌথ দল প্রাথমিক চিকিৎসার পর হেলিকপ্টারে স্থানান্তর করেছে।

ভয়াবহ এই আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার তিন শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাহাড়ি নদী অববাহিকার প্রায় এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শত শত দেশি ও বিদেশি শ্রমিক বন্যার কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে সুরঙ্গের অভ্যন্তরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকারী দলের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সুরঙ্গের গভীরে বাতাসের পকেট এবং সীমিত পানি থাকার কারণেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এতদিন বেঁচে থাকা সম্ভব হয়েছে।

সুরঙ্গ ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালানোর জন্য ভারী খনন যন্ত্রপাতি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে হাত এবং হালকা সরঞ্জামের ওপর নির্ভর করছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ও ভূমিধসের কারণে দুর্গত জেলাগুলোতে স্থলপথে ত্রাণ পৌঁছাতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে নিখোঁজদের সন্ধানে সেনাবাহিনী এবং বিশেষায়িত প্রযুক্তি দল তল্লাশি অভিযান জোরদার রেখেছে।

banner
Link copied!