গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) জার্মানির বিরুদ্ধে নিকারাগুয়ার দায়ের করা মামলার আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে এই মামলার প্রাথমিক শুনানি চলছে, যেখানে মূলত মামলার গ্রহণযোগ্যতা এবং আদালতের এখতিয়ার নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ জার্মানি শুরু থেকেই নিকারাগুয়ার এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে। জার্মান আইনি প্রতিনিধিদল আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে যেন বিচারকাজ এগিয়ে যাওয়ার আগেই মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৪ সালে নিকারাগুয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলাটি দায়ের করে অভিযোগ করেছিল যে, গাজায় সম্ভাব্য গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল থাকা সত্ত্বেও বার্লিন ইসরায়েলকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে এবং জাতিসংঘের ফিলিস্তিন শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর তহবিল স্থগিত করে প্রকারান্তরে গণহত্যায় সহযোগিতা করছে।
আন্তর্জাতিক আদালত বা বিশ্ব আদালত নামে পরিচিত এই বিচারিক প্রতিষ্ঠানটি মূলত বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত হয়েছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে একটি পৃথক গণহত্যার মামলা দায়ের করেছে, যার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে। তবে দ্য হেগের বর্তমান শুনানিতে জার্মানি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা, সেই মূল বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হচ্ছে না; বরং মামলাটি পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিকে অগ্রসর হতে পারবে কিনা, সেটিই নির্ধারিত হচ্ছে।
নিকারাগুয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং ১৯৪৮ সালের কনভেনশনের অধীনে যেকোনো রাষ্ট্রেরই গণহত্যা প্রতিরোধ করার এবং তাতে সহযোগিতা না করার সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জার্মানি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র সরবরাহ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। অন্যদিকে জার্মানির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে তাদের অস্ত্র রপ্তানি অত্যন্ত কঠোর আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় এবং নিকারাগুয়ার আনীত অভিযোগগুলো আইনগতভাবে ভিত্তিহীন।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক দায়িত্ব এবং যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধে তৃতীয় পক্ষের পরোক্ষ সহযোগিতার পরিধি নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে। আদালতের বিচারক প্যানেল উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনার পর আগামী দিনে মামলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই মামলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
