শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

বারবারা কার্টল্যান্ডের সাহিত্য ও বিতর্কিত জীবন নিয়ে বই

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম

বারবারা কার্টল্যান্ডের সাহিত্য ও বিতর্কিত জীবন নিয়ে বই

উইলিয়াম শেক্সপিয়ার ও আগাথা ক্রিস্টির পর বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত লেখক হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ডেম বারবারা কার্টল্যান্ড, যা বিবিসি নিউজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। জীবদ্দশায় প্রায় সাতশত তেইশটি বই লিখে প্রায় পঁচাত্তর কোটি কপি বিক্রির অভূতপূর্ব রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তবে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য থাকা সত্ত্বেও সাধারণ পাঠকদের স্মৃতিতে তাঁর সাহিত্যকর্মের চেয়ে ব্যক্তিগত রূপসজ্জা ও প্রচারণামুখী জীবনই বেশি স্থান পেয়েছিল। মৃত্যুর পঁচিশ বছর পর এই ব্রিটিশ লেখকের বহুমাত্রিক কর্ম ও জটিল ব্যক্তিত্বের চুলচেরা বিশ্লেষণ নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে নতুন জীবনীগ্রন্থ।

গবেষক ও লেখক ম্যাথিউ সুইটের রচিত এই জীবনীগ্রন্থের নাম রাখা হয়েছে দ্য গ্রেট ডিক্টেটর। নামটি রাখা হয়েছে একটি বিশেষ কারণে, কারণ কার্টল্যান্ড নিজে কখনো টাইপরাইটারে লিখতেন না। আরামকেদারায় শুয়ে তিনি মুখে বলে যেতেন এবং তাঁর সহকারী তা দ্রুত লিপিবদ্ধ করতেন। নতুন এই গ্রন্থের জন্য গবেষক সুইটকে কার্টল্যান্ডের নাতনি তারা ম্যাককরকোডেল পারিবারিক দলিলপত্র ও ব্যক্তিগত মহাফেজখানায় পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিয়েছিলেন। শতাব্দীর প্রায় এক চতুর্থাংশ সময় ধরে স্পর্শ না করা বহু নথি ঘেঁটে এই লেখকের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

উনবিংশ শতকের পটভূমিতে লেখা তাঁর রোমান্টিক উপন্যাসগুলো ইংল্যান্ডের সাধারণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

কার্টল্যান্ডের জীবনকাল বিশ শতকের প্রায় পুরোটা জুড়েই বিস্তৃত ছিল। ১৯০১ সালে জন্ম নেওয়া এই লেখক দুটি বিশ্বযুদ্ধ, ষাটের দশকের সামাজিক রূপান্তর ও ইন্টারনেটের আগমন প্রত্যক্ষ করেছেন। দুই বছর বয়সে পারিবারিক দেউলিয়াত্ব ও ট্র্যাজেডির শিকার হওয়ার পর অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে তাঁকে উচ্চবিত্ত সমাজে প্রতিষ্ঠা পেতে লড়াই করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সংবাদপত্র জগতের গসিপ কলাম লেখক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে ১৯২৫ সালে তিনি নিজের প্রথম উপন্যাস প্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম দিকের রচনার মধ্যে তৎকালীন সামাজিক সংকটের চিত্র সাহসের সাথে উঠে এসেছিল।

পরবর্তী জীবনে কার্টল্যান্ড কম দামি পেপারব্যাক উপন্যাসের যুগে ব্যাপক বাণিজ্যিক সাফল্য পান। তিনি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লেখা তৈরি করতেন এবং গড়ে প্রতি দুই সপ্তাহে একটি নতুন বই শেষ করতেন। রাজপরিবারের সাথেও তাঁর পারিবারিক সংযোগ ছিল, কারণ তাঁর মেয়ে রেইনের সাথে প্রিন্সেস ডায়ানার বাবার বিবাহবন্ধনের সূত্রে তিনি ছিলেন ডায়ানার সৎ মাতামহী। তবে নারীবাদী আন্দোলনের বিরোধী হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি গৃহস্থালি কাজের জন্য নারীদের রাষ্ট্রীয় ভাতার পক্ষে মত দিয়েছিলেন এবং স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত রোমানি জিপসি সম্প্রদায়ের আবাসন অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ম্যাথিউ সুইটের বইটি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

banner
Link copied!