সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ঘুমের ঘাটতি পূরণে ছুটির দিনে বাড়তি ঘুম কতটা কার্যকর

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

ঘুমের ঘাটতি পূরণে ছুটির দিনে বাড়তি ঘুম কতটা কার্যকর

কাজের দিনে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ছুটির দিনে বাড়তি ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব কিনা, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নানা গবেষণা চলছে। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম চিকিৎসকেরা আদর্শ মানেন। কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এই প্রয়োজনীয়তা দৈনিক আট থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় আট হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মানুষই কাজের দিনের ঘাটতি মেটাতে ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমান।

ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে মূলত দুটি শারীরিক প্রক্রিয়া। প্রথমটি হলো শরীরের ঘুমের প্রাকৃতিক চাপ, যা দীর্ঘক্ষণ জেগে থাকলে বাড়তে থাকে। দ্বিতীয়টি হলো আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা জৈবিক ছন্দ, যা আলো, তাপমাত্রা এবং খাবারের ওপর নির্ভর করে নিজে থেকেই সময় ঠিক করে নেয়। ছুটির দিনে সকালের দিকে অতিরিক্ত ঘুমালে রাতের দিকে সময়মতো ঘুম আসতে চায় না। ফলে রোববার রাতে দেরিতে ঘুমানো এবং পরদিন সোমবার ভোরে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে কাজে যাওয়ার কারণে ক্লান্তির একটি নতুন চক্র তৈরি হয়। ওরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এই অবস্থাকে তুলনা করেছেন প্রতি সপ্তাহে সময় অঞ্চল বদলানোর ক্লান্তির সঙ্গে।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প ঘুমে শরীরের যে ক্ষতি হয় তা কিছুটা হলেও কাটিয়ে তুলতে বাড়তি ঘুম সাহায্য করে।

একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, কোনো ব্যক্তি এক রাতে মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমালে তার শরীরে দুই ধরনের শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়, যা শারীরিক মানসিক চাপের লক্ষণ। পরবর্তী রাতে আট ঘণ্টা ঘুমালেও রক্তকণিকার এই অস্বাভাবিক মাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরে না। কিন্তু দশ ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পেলে শরীরের এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অনেকটাই আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। অপর এক গবেষণায় এগারোজন পুরুষের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, স্বাভাবিক আট ঘণ্টার ঘুম কমিয়ে চার ঘণ্টা করে দিলে মাত্র ছয় রাতের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজ প্রক্রিয়াকরণ ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এই অবস্থা দীর্ঘদিন বজায় থাকলে মানুষের টাইপ-দুই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রবলভাবে বেড়ে যায়। তবে টানা ছয় রাত বারো ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ দেওয়ার পর তাদের শারীরিক এই অস্বাভাবিকতা আবার স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।

সুইডেনে চল্লিশ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর টানা তেরো বছর নজর রেখে গবেষকেরা দেখেছেন, পঁয়ষট্টি বছরের কম বয়সী যেসব মানুষ পাঁচ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি পঁয়ষট্টি শতাংশ বেশি থাকে। কিন্তু কাজের দিনে কম ঘুমালেও ছুটির দিনে যারা কিছুটা বাড়তি সময় ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না।

একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় দুই হাজার আটশ মানুষের ওপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, কম ঘুমানো মানুষের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। তবে ছুটির দিনে প্রতি এক ঘণ্টা বাড়তি ঘুম এই ঝুঁকি প্রায় সতেরো শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে। গবেষকেরা বলছেন, ঘুমের ঘাটতি পূরণের সবচেয়ে আদর্শ সীমা হলো এক থেকে দুই ঘণ্টা। এর চেয়ে বেশি সময় দুপুর পর্যন্ত ঘুমালে তা শরীরের উপকারের চেয়ে অভ্যন্তরীণ ঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। অন্যদিকে যাদের দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা বা ঘুম না আসার অসুস্থতা রয়েছে, তাদের জন্য ছুটির দিনেও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা অনুচিত বলে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

banner
Link copied!