বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই: বাব আল-মান্দেব ও মক্কা ড্রোন বিতর্ক

উম্মাহ কণ্ঠ

প্রকাশিত: : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই: বাব আল-মান্দেব ও মক্কা ড্রোন বিতর্ক

লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীসংলগ্ন এলাকায় পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুথি যোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ছোড়া একটি বিস্ফোরক ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে; যদিও হুথিরা এই অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টলাইনে বোমাবর্ষণের তীব্রতা এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

পূর্ব আল-বালাক এলাকায় সরকারি অবস্থান লক্ষ্য করে হুথিরা আক্রমণ চালালে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে বিস্তৃত হয়। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, কৌশলগত কাহবুব পর্বতমালা দখলের লক্ষ্যে হুথি যোদ্ধারা অগ্রসর হচ্ছে, যেখান থেকে সরাসরি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এর আগেই তারা প্রণালীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইয়ুন দ্বীপ এবং মোখা শহরের দক্ষিণাঞ্চলীয় ধুবাব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। কৌশলগত অবস্থানের এই পরিবর্তন লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

এদিকে তায়েজের দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামাঞ্চলে সরকারি সেনাচৌকি লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী। যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ফলে তায়েজ এবং প্রতিবেশী লাহিজ প্রদেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার বেসামরিক নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বেইজিংয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের বৈধ স্বার্থ সুরক্ষায় সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

একই সময়ে গাজা সিটির দক্ষিণ আল-রিমাল এলাকায় পূর্বে বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ছয়তলা আল-সায়িদা ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় একশ মানুষ নিহত, আহত বা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

banner
Link copied!